Tarapith, Hotel, তারাপীঠে ১৫টি হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ আগস্ট: তারাপীঠে অগ্নিকান্ডে নয় জন পুন্যার্থীর মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল প্রশসাসন। বৈধ কাগজ না থাকায় ইতিমধ্যেই ১৫টি লজকে বন্ধের নোটিশ জারি করতে চলেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। এদিকে অগ্নিকান্ডের সময় বেশ কিছু পুন্যার্থী লজ সংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। সেই পুকুরে কেউ ডুবে রয়েছে কি না সেটা দেখতে এদিন স্পিড বোর্ড নামানো হয়। অগ্নিকান্ডে মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত লজ মালিক এবং তার বাবাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরের দিকে তারাপীঠ থানার পাশের একটি বেসরকারি হোটেলে অগ্নিকান্ডে মৃত্যু হয় নয় জন পুন্যার্থীর। তাদের মধ্যে ৫ জন মেঘালয়ের বাসিন্দা। তারা একই পরিবারের সদস্য। বাকি চার জন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সোমবার রাতে পাঁচটি মৃতদেহ মেঘালয়ের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দাদের মৃতদেহ পরিবারের লোকজন নিয়ে যান। দু’দিন ধরে তাদের পাশে ছিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তাদের থাকা খাওয়া এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি।

এই ঘটনার পর হোটেল ও লজের পরিকাঠামো সরেজমিনে দেখার জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা সোমবার রাত থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এরপরেই মঙ্গলবার ১৫টি হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক অশ্বিনী বি রাঠোর বলেন, “এর আগেও বেশ কয়েকটি হোটেল ও লজকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে না। তাই জেলা শাসকের নির্দেশে সেগুলি বন্ধের নোটিশ দেওয়া হবে।”

যদিও হোটেল মালিক সমিতির পক্ষে জয়ন্ত রায় বলেন, “আমরা মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা প্রশাসনের কাছে সময় চেয়ে নেব। কারণ তারাপীঠে বহু হোটেল রয়েছে যাদের তার উপর সংসার চলে। ফলে হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে তারা অসহায় হয়ে পড়বে। ফলে কিভাবে নিয়ম মেনে হোটেল চালানো যায় সে বিষয়ে প্রশাসনের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে সমস্ত হোটেলে সেই ব্যবস্থা করা হবে।”

হোটেল মালিক নিতাই মাল বলেন, “আমাদের বহু পুরনো হোটেল। ফলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। প্রশাসন বলার পর আমরা অগ্নিনির্বাপণের কাজ শুরু করেছি। এরজন্য কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। আচমকা হোটেল বন্ধ করে দিলে অধিকাংশ হোটেল মালিক বিপদে পড়বেন।”

এদিকে এদিন অভিশপ্ত হোটেলের পাশের পুকুরে স্পিড বোর্ড নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। আর কোনো মৃতদেহ পুকুরে রয়েছে কি না তা দেখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো দেহ উদ্ধার হয়নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *