কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঝালদা পুরসভার নাখুশ বিরোধীরা ফের আদালতের পথে

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৭ নভেম্বর: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঝালদা পুরসভায় বিরোধীদের ডাকা আজকের তলবি সভা হল না, ২১ নভেম্বরই হবে। বিরোধী কংগ্রেস কাউন্সিলরদের ৪ নভেম্বরের জারি করা নোটিশ খারিজ করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। হাইকোর্টের নির্দেশে খুশি শাসকদল।

অন্যদিকে, বুধবার এই নির্দেশ বিবেচনার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে যাচ্ছে কংগ্রেস। আজ সভা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ ৫ কংগ্রেস কাউন্সিলর ছাড়াও বিরোধী দুই নির্দল কাউন্সিলর। নিহত তপন কান্দুর বাড়িতে সাত কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, “মহামান্য আদালতের নির্দেশ আমরা মানছি। একই সঙ্গে তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি আদালতকে বোঝাতে বুধবার সাত কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। আশাকরি আদালতকে ঠিকটা জানিয়ে আস্থা ভোটের সভা ২১ তারিখের আগেই পাব। আদালতের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”

১৩ ই অক্টোবর ঝালদার তৃণমূল পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন কংগ্রেসের পাঁচ ও নির্দলের এক কাউন্সিলর অর্থাৎ মোট সাতজন। এর ১৫ দিনের মধ্যে তলবি সভা ডাকেননি। ফলে উপ-পুরপ্রধান তাঁর সময়সীমার একেবারে শেষের দিকে ২১ নভেম্বর তলবি সভা ডাকেন। কিন্তু সেই সভা বৈধ নয় বলে দাবি করেন অনাস্থা আনা কাউন্সিলররা। পালটা তাঁরাও তলবি সভা ডাকেন। দু’পক্ষই তলবি সভা ডাকার ঘটনায় প্রশাসন চুপ থাকায় শাসক ও বিরোধীদের বিবাদ গড়ায় আদালতে। বিরোধী কাউন্সিলরদের জারি করা নোটিস খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা
হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ঝালদা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুদীপ কর্মকার।

সেই মামলায় আজ নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ আজ হল না ঝালদা পুরসভার আস্থা ভোট। তিন বিরোধী কাউন্সিলরের জারি করা নোটিস খারিজ করে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, ভোট হবে ২১ নভেম্বরই। অর্থাৎ ঝালদা পুরসভার আস্থা ভোট সংক্রান্ত মামলায় ধাক্কা খেয়েছে বিরোধীরা। যাতে স্বাভাবিকভাবেই খুশি শাসক শিবির।

ঝালদা পুর সভার পুর প্রধান সুরেশ আগরওয়াল বলেন, “আইন সবার জন্য। আদালত বিরোধীদের চক্রান্ত বানচাল করে দিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা এসেছিল। সেই সময় এই অনাস্থা সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তি হয়েছিল আদালতের নির্দেশেই। সেই সময় অনাস্থা আনা কাউন্সিলরদের ডাকা তলবি সভার দিন
পুর ভবন বন্ধ রাখা হয়। খোলা বারান্দায় তাদের তলবি সভা হয়েছিল। কিন্তু সেই সভাকে মান্যতা দিতে চায়নি পুরসভা। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলররা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশেই চেয়ার ছাড়তে হয় ওই সময়কার পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালকে। এবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *