ইন্দিরা আমলের সঞ্জয় গান্ধীর মতো অভিষেক বাংলায় এমার্জেন্সি চালাচ্ছে: সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ৪ আগস্ট: শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধর্মতলার অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচিতে থেকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন সুকান্ত মজুমদার। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের সঞ্জয় গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা খুব তাড়াতাড়ি রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে।

আজকের ধর্না মঞ্চে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে গিয়ে সম্প্রতি তৃণমূল সরকারের মন্ত্রিসভার রদবদল করে ভাবমূর্তি ফেরানো নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, তৃণমূল নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির উদাহরণ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে আনছে। কিন্তু তাকেই সাধারণ মানুষ কয়লা ভাইপো আর তার স্ত্রীকে সোনা বৌদি বলেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “অভিষেক নাকি স্বচ্ছ মুখ। উনি লিখতেন তিনি এমবিএ পাশ। পরে জানা গেল সেই ডিগ্রি জাল। যেখান থেকে তিনি পাশ করেছিলেন সেই ইন্সিটিউটের কোনো বৈধতা নেই। সাধারণ মানুষ তাকে কয়লা ভাইপো, ও তার স্ত্রীকে সোনা বৌদি বলেন। এর থেকেই স্পষ্ট তার ভাবমূর্তি কতটা স্বচ্ছ।” প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার কান্ডে অভিষেক ও তার স্ত্রী রুজিরাকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা বেশ কয়েকবার জেরা করেছেন।

পার্থ কাণ্ডের পর, প্যানেলে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি থেকে বঞ্চিত আন্দোলনরত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে অভিষেক তাদের চাকরি হবার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এই আশ্বাস দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর প্রশ্ন, “অভিষেক কিভাবে বলতে পারে তিনি চাকরি দেবেন। উনি তো রাজ্য সরকারের কেউ নন।” এরপরই তিনি সঞ্জয় গান্ধী ও জরুরি অবস্থার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন,”পশ্চিমবঙ্গে সঞ্জয় গান্ধীর আর্বিভাব ঘটেছে। আর জরুরি অবস্থা আমাদের দুয়ারে চলে এসেছে। এখানে সাধারণ পোস্টার পর্যন্ত লাগাতে দেওয়া হয়নি আমাকে। মহিলা পুলিশ দিয়ে ঘিরে ধরে খিমছে আঘাত করে আমায় জোর করে আটক করা হয়েছিল।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে বিরোধী দলের সভাপতির সাথে এই আচরণ হয় সেখানে গ্রামেগঞ্জে বিরোধী মনোভাবাপন্ন সাধারণ মানুষের সাথে কতটা দুর্ব্যবহার হয় তা অনুমান করতে পারি। তাঁর কথায়, “এমার্জেন্সি চলছে বাংলায়। আর এই এমার্জেন্সি চালাচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *