গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ গেল যুবকের, উত্তেজনা জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে

আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ২৪ আগস্ট: গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়ায় এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় কুকুরজান গ্রামে।

স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রামের গরু চুরি করার উদ্দেশ্যে এক দল দুষ্কৃতী কুকুরজান এলাকার বরুয়া পাড়ায় এসেছিল। গরুর মালিক ও গ্রামবাসী দুষ্কৃতীদের উপস্থিতি টের পায় বলে দাবি। দুষ্কৃতীদের ধরতে রাতেই বাড়ির মালিক তাদের পিছু নিয়েছিল। সকলে পালিয়ে গেলেও এক যুবক স্থানীয় এক চা বাগানে লুকিয়ে যায় বলে দাবি। সেই চা বাগানে চুরির গরু রেখে দেওয়া হয়েছিল। গরু উদ্ধার করে গভীর রাত হওয়ার গ্রামবাসীরা চা বাগানে দুষ্কৃতীদের খোঁজ পায়নি বলে দাবি। যদিও রাত জেগে চা বাগানের চারিদিকে পাহাড়া দেয় গ্রামবাসীরা। ভোরের আলো ফুটতেই লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতীকে খুঁজে বের করে গ্রামবাসীরা। এরপর উত্তেজিত জনতা ওই দুষ্কৃতীকে গণপিটুনি দেয় বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই দুষ্কৃতীর।

এ দিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাজগঞ্জ থানায় পুলিশ। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক গণপিটুনির জেরে মারা যায়। মৃতে নাম সালাম মহম্মদ। সুত্রের খবর, বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার কাহার পাড়ার বাসিন্দা সে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এদিকে ওই যুবকের মৃত্যুর পরেই এলাকায় ছেড়ে পালিয়ে যায় কয়েকজন গ্রামবাসী। পুলিশ জানায়, গণপিটুনি সঙ্গে যুক্ত গ্রামবাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গরুর মালিক নিপেন রায় বলেন, “গরু নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। একজনকে ধরে মারধর দিয়েছেন উত্তেজিত গ্রামবাসী।”

স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, “বিএসএফ কি করছিল? বিএফএসের জন্য পাচারকারীরা আসেন।”

মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন,”আগেও বলেছি। গরু পাচারের জন্য দায়ী বিএসএফ।”

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বরুয়া পাড়ার তিনজন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে। এদিন বিকেলে গ্রামবাসীরা রাজগঞ্জ থানায় বিক্ষোভ দেখায় ও রাস্তা অবরোধে সামিল হয়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেন, “এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মারধরের অভিযোগ থাকায় তিনজন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন আইনের মত চলবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *