স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১০ আগস্ট: যত দিন যাচ্ছে ততই শরীর ছোট হয়ে যাচ্ছে। এমনই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন লরি চালকের একমাত্র মেয়ে পম্পা দাস। প্রথমে শিলিগুড়ি চিকিৎসার জন্য গেলে সেখান থেকে রেফার করে দেওয়া হয় কলকাতায়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন ১০ টা ইঞ্জেকশন দিতে হবে পম্পাকে। প্রতি ইঞ্জেকশনের দাম ১০ হাজার টাকা করে, যা পম্পার বাবা রতন দাসের পক্ষে সম্ভব নয়। এই অবস্থায় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছেন পম্পা।
রায়গঞ্জ ব্লকের ৮ নম্বর বাহিন গ্রামপঞ্চায়েতের উত্তর সোহারই গ্রামের বাসিন্দা পেশায় লরি চালক রতন দাস ও গৃহবধূ কল্পনা দাসের একমাত্র মেয়ে ২৮ বছরের পম্পা দাস গুরুতর অসুস্থ। চার-পাঁচ বছর আগেও পম্পার উচ্চতা ছিল ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই এক অদ্ভুত জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পম্পার উচ্চতা এসে দাঁড়িয়েছে ৩ ফুট ৮ ইঞ্চি। ডাক্তারি পরিভাষায় এই রোগের নাম “সাইকোপিনিয়া”। শরীরের মাসল ও হারের বৃদ্ধি হ্রাস ঘটতে থাকে৷ দ্রুত চিকিৎসা না করলে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যায় শরীর। প্রায় দিনমজুরি করা রতন দাস মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রথমে যান শিলিগুড়ি। কিন্তু শিলিগুড়ি থেকে চিকিৎসকেরা রেফার করে দেয় কলকাতায়। পম্পার এই দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে শিলিগুড়ির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পম্পাকে ১০ টি ইঞ্জেকশন করতে হবে। কিন্তু প্রতিটি ইঞ্জেকশনের দাম ১০ হাজার টাকা। এই বিপুল অর্থ ব্যায় করে লড়ি চালক রতন দাসের পক্ষে সম্ভব নয় পম্পার চিকিৎসা চালানো।

নিজের একমাত্র মেয়ে দিনের পর দিন চোখের সামনে ছোট হয়ে যাচ্ছে। এমনই দূরারোগ্য ব্যাধি সারাতে প্রয়োজন প্রচুর অর্থের যার জোগান নেই তাঁদের কাছে। তাই পম্পার পরিবার ও গ্রামের বাসিন্দারা আবেদন করেছেন সাধারন মানুষের কাছে। যদি কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পম্পার চিকিৎসার খরচ জোগাতে আসেন তাহলে পম্পা হয়তো তাঁর সুস্থ জীবনে ফিরে পায়। পাশাপাশি সরকারের কাছেও তাঁদের আবেদন চিকিৎসার খরচ এবং ভাতার ব্যাবস্থা করে দেওয়ার। এখন দেখার অসুস্থ পম্পার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন কিনা আর সেই আশাতেই দিন গুনছেন রায়গঞ্জের সোহারই গ্রামের বাসিন্দা অসুস্থ পম্পা ও তাঁর পরিবার।

