সৌরভ চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ১০ ডিসেম্বর: সেদিন ছিল ৬.৫ লক্ষ হৃদয়ের একসাথে আবেগ আর প্রার্থনার ধ্বনি। কেউ সারাদিন ব্রত রেখেছিলেন। কারও ঠোঁটে একফোঁটা জলও নেই, কেউ গীতাপাঠের শেষ শ্লোকের অপেক্ষায়, শুধু একবার জল ছুঁয়ে নেবে বলে…
কেউ আবার গুরুর দর্শন আর প্রসাদের আশায়
চোখ নামিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে।
এই মানুষগুলো কোনো নেতার কথায় চাকরি বা জব কার্ড বাঁচাতে কলকাতা ঘুরতে আসেনি। তারা এসেছিল বিশ্বাস নিয়ে, আত্মসম্মান নিয়ে, অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা নিয়ে। তাদের এই ভক্তি, ত্যাগ, আবেগকে ধর্মান্ধতা বলবেন না। এভাবে মানুষের চোখের জলে পাথর বসাবেন না।
হাত জোড় করে বলছি সেই আঁতেল বুদ্ধিজীবীদের, আপনারা মানুষের হৃদয়ের ভাষা বোঝেন না, আপনারা এই বাংলাকেও চিনতে পারেননি। এই ৬.৫ লক্ষ মানুষ বিরিয়ানি বা ডিমভাতের লাইনে দাঁড়ায়নি। তারা দাঁড়িয়েছিল সনাতনের ডাকে, আত্মসম্মানের ডাকে।
একবার ভাবুন— কারা দড়ি বেঁধেছে, কারা রোদে পুড়ে মঞ্চ বানিয়েছে? ৩০০০ শ্রমিক দিনের পর দিন ঘাম ঝরিয়েছে। ওরা কি আপনাদের ন্যারেটিভে মানুষ হিসেবে গণ্য হয়?
আবারও হাত জোড় করেই বলছি— কারণ আমার গীতা, আমার রামায়ণ আমাকে ঘৃণা নয়, ভালোবাসা শেখায়। সেখানে “ভেজ” এর নাম করে “চিকেন” খাওয়ানোর চেষ্টা ঢাকতে আপনাদের এই অপপ্রচার একদিন নিশ্চয়ই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।
৭০ বছরের ন্যাকা ন্যারেটিভের জোরে আজও সব জিতে নেওয়া যায়—এই ভুলে থাকবেন না। একবার কলকাতার ক্যামেরা ছেড়ে নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূমের মাটিতে পা রাখুন, দেখবেন ওদের চোখে আপনার এলিট গর্ব কতটা তুচ্ছ।
এভাবে বারবার খোঁচাবেন না। এভাবে মানুষের বিশ্বাসে ছুরি বসাবেন না। এই অনুষ্ঠান ছিল আত্মার উৎসব, বিশ্বাসের মহাযজ্ঞ। আমি নিজে দেখেছি, গীতাপাঠ শেষে কত মানুষ ভেজা চোখে হাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে নিজের ইষ্টদেবতাকে প্রণাম করেছে। সেই জল অভিনয়ের ছিল না। তা ছিল আত্মার মুক্তির জল।
Core Belief-এ আঘাত দিলে সে ক্ষত কখনও সারে না। চারপাশ বদলাচ্ছে, সময় বদলাচ্ছে, দেওয়ালের লেখাও বদলাচ্ছে। আপনারা শুধু চোখ বন্ধ করে দেখতে চাইছেন না, এই যা!
এই মাটি সহজ নয়, এই মাটির গভীরে পোঁতা আছে শ্রী চৈতন্যদেব, স্বামীজি আর অসংখ্য মহামানবের নাড়ি। এই মাটিকে অবজ্ঞা করলে ইতিহাস একদিন তার জবাব দেবে।

