আমাদের ভারত, ২৭ মে:শুধুমাত্র কৃষিবিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কিংবা বিক্ষোভ প্রদর্শন করাই নয় ২৬ জানুয়ারি লালকেল্লা দখল করে সেখানে স্থায়ী ধরনা মঞ্চ বানানোর ছক কষেছিল আন্দোলনকারী কৃষকরা। এমনকি এর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতিও ছিল তাদের। আদালতে চার্জশিট দায়ের করে এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
২৬শে জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারী কৃষকরা। সেই ট্রাক্টর মিছিলের শেষে রাজধানীত পৌঁছে লালকেল্লা ঘিরে ফেলেন তারা। এমনকি কেল্লার সামনে পতাকা তোলার মঞ্চ একরকম দখল করে নিয়ে সেখানে উড়িয়ে দেওয়া হয় শিখ ধর্মের পতাকা নিশান ই শাহীব। দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, এই বিক্ষোভ একদিনের নয়। দীর্ঘদিন ধরে এর প্রস্তুতি চলছিল।
দীর্ঘ দিনের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে ৩ হাজার পাতার চার্জশিটে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গত দু’বছর ধরে ট্রাক্টর বিক্রির খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, গত বছর ডিসেম্বর মাসে দুই রাজ্যে ট্রাক্টর কেনার হিড়িক পড়ে যায়। কিন্তু তার আগেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। যেমন ২০১৯ সালের নভেম্বরের তুলনায় ২০২০-র নভেম্বরে শুধু পাঞ্জাবেই ৪৩.৫৩ শতাংশ ট্রাক্টর বেশি বিক্রি হয়েছে। একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই হাজার কুড়ি সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ট্রাক্টর বিক্রির হার ৮৫.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হরিয়ানাতেও ছবিটাও অনেকটাই একই রকম।
এইসব দেখে দিল্লি পুলিশ মনে করছে, পুরোটাই নয়া কৃষি বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নামে গভীর ও পরিকল্পিত চক্রান্ত। কৃষকদের উদ্দেশ্য ছিল লালকেল্লাকে স্থায়ী ধর্না মঞ্চে পরিণত করা, যাতে বিক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে সার্বিক নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃতভাবে প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো দিনটিকে বেছে নিয়েছিল, ওইদিনই তারা লালকেল্লায় উঠে কিষান পতাকা উত্তোলন করেন। এতে দেশ ও দেশের বাইরে দেশবাসীর মুখ পুড়েছে। অন্যদিকে ট্রাক্টর কেনাবেচার তথ্য জমানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেটাও দিল্লি পুলিশ তাড়াতাড়ি শেষ করতে চাইছে। ইতিমধ্যে দুই রাজ্যের ট্রাক্টর অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজেশনকে নোটিশ পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে গত দু’বছরে প্রতিমাসে সমস্ত জেলায় কোথায় কিভাবে ট্রাক্টর বিক্রি হয়েছে তার তালিকা যাতে দ্রুত জমা দেওয়া হয়।

