আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৮ জুলাই: ছেলের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার টাকা তুলতে গিয়ে আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপরেই যুবককে রামপুরহাটের ভাঁড়শালার বাড়ির মধ্যে ঘিরে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয় পরিবারের সদস্যরা।
জানাগিয়েছে, আট মাস আগে কিডনির অসুখে মৃত্যু হয় বীরভূমের মাড়গ্রাম থানার কানাইপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় মাল নামে এক যুবকের। ছেলের মৃত্যুর পর দারিদ্রতার কথা জানিয়ে সরকারের কাছে আর্থিক অনুদান দেওয়ার জন্য আবেদন করেন মা মমতা মাল। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে দু’লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান দেওয়া হয় পরিবারকে। কিন্তু পরিবারের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে পাশের গ্রামের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের এজেন্ট পলাশ শেখ নামে কানাইপুর গ্রামের এক যুবক ওই টাকা তুলে নেয়। শুক্রবার বিষয়টি জানতে পেরে যুবককে ঘেরাও করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন পরিবারের সদস্যরা।
মমতাদেবী বলেন, “অনুদানের টাকা আসার খবর পেয়ে বিভিন্ন সময় পলাশ টিপছাপ নিয়ে আট বারে ২ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছে। নিজেই ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের এজেন্ট হওয়ায় তার টাকা আত্মসাৎ করতে সুবিধা হয়েছে। ব্যাঙ্কে গিয়ে পাশবই আপডেট করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি”। পলাশ অবশ্য আত্মসাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তার দাবি সম্পূর্ণ টাকা দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্কের শাখা প্রবন্ধক অংশু বর্মা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ওই গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করেছি। তার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা মমতা মালকে দেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা তদন্ত করে বাকি টাকা কিভাবে দেওয়া যায় সেটা দেখব। পাশাপাশি পুলিশকেও তদন্তের জন্য অনুরোধ করব”।

