স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২ সেপ্টেম্বর: প্রেমিকাকে বাইকের ধাক্কা দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রূপাহার এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যুবতীর নাম লিপি বর্মন(২০)। তার বাড়ি উত্তর রূপাহার এলাকায়। গত বুধবার নির্মীয়মান জাতীয় সড়কের ফোর লেন এলাকাতে দেখা করার আছিলায় ডেকে নিয়ে এসে সেখানেই মোটর বাইকের ধাক্কা দিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত প্রেমিক রাজেশ বর্মন। এরপর স্থানীয়রা লিপিকে রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে তাকে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় লিপির।

এই ঘটনার পর রাজেশ বর্মনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে লিপি বর্মনের পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত রাজেশকে গ্রেফতার করার দাবি করেছেন তারা।
জানা গিয়েছে, গত চার বছর ধরে হেমতাবাদের বাসিন্দা রাজেশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল লিপির। এরপর দুই পরিবারের কথা বার্তার পর তাদের বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। প্রথম প্রথম সবকিছু ঠিক থাকলেও কয়েকদিন পর থেকে রাজেশের বাবা-মা লিপির পরিবারের কাছে কখনো দু’লক্ষ টাকা কখনো চার লক্ষ টাকা পণের দাবি করে বলে অভিযোগ ওঠে। পণ না দিলে বিয়ে করবে না এমন কথা লিপিকে জানায় রাজেশ বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মাঝে অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল রাজেশ বলে অভিযোগ করেছেন লিপির পরিবারের সদস্যরা। পথের কাঁটা লিপিকে দূর করতেই গত বুধবার তাকে রূপাহারের ফোর লেন এলাকায় ডাকে রাজেশ। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মোটরবাইক দিয়ে সজোরে লিপিকে ধাক্কা মেরে সে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে রাজেশ। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

লিপির কাকিমা কৌশল্যা বর্মন বলেন, “রাজেশের সঙ্গে চার বছর ধরে সম্পর্ক থাকার পর বিয়ের কথাবার্তা হয়েছিল। তবে পণ দিতে না পারলে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয় রাজেশ। এরপরই আমার জায়ের মেয়েকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে রাজেশ। আমরা তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত দেব পাল বলেন, “এমন একটি ঘটনার জন্য দায়ী অভিযুক্ত যুবকের শাস্তির দাবি করছি।”

