প্রতীকী লাশ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ

আমাদের ভারত, ১২ ফেব্রুয়ারি: স্কুল সার্ভিস কমিশনের ঘোষণা মেনে নিয়োগের দাবিতে প্রতীকী লাশ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ (নবম-দ্বাদশ)। দাবি না মেটা পর্যন্ত অবস্থান চলবে বলে আন্দোলনকারীদের তরফে মহিদুল ইসলাম জানান।

এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “সুবিচার পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দফতরে দফতরে ঘোরার পর, শহরজুড়ে টুকরো টুকরো বিভিন্ন আন্দোলন চালানোর পর অবশেষে মেধা তালিকার মধ্যে যোগ্য অথচ বঞ্চিত প্রার্থীদের চাকরি সুনিশ্চিত করা দরকার ছিল। এর প্রত্যাশায় আমরা বর্তমানে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে ফের অবস্থান আন্দোলন চালাচ্ছি। চাকরি না পেয়ে প্রতিদিন শিক্ষিত বেকার চাকরি প্রার্থীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। আমাদের চাকরির পাশাপাশি আপামর বেকারদের আত্মহননের পথ বন্ধ করতে সবাইকে আমরা আমাদের আন্দোলনের মঞ্চে আহ্বান জানাই।

আপনারা জানেন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে আমরা মেয়ো রোড প্রেস ক্লাবের সামনে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে ২৯ দিন অনশন করেছিলাম। এই আন্দোলনের মূল কারণ ছিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের ঘোষণা মেনে নিয়োগ না করা এবং নিয়োগ ক্ষেত্রে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং অসঙ্গতি। এমনকি তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও সরকার সমর্থিত দলের নেতা মন্ত্রীর ছেলে মেয়েদের মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল সেই সময়। বর্তমান রাজ্য সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী নাম তারমধ্যে অন্যতম।

এই সমস্ত বিষয়কে সামনে রেখে আমরা যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে দীর্ঘ ২৯ দিন অনশন আন্দোলন করেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের অনশন মঞ্চে এসে আমাদের চাকরি সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- প্রতিশ্রুতি পূরণ তো হলোই না, উপরন্তু আমাদের অনশন মঞ্চে এসে মুখ্যমন্ত্রী সরকারিভাবে যে ৫ প্রতিনিধি দল তৈরি করেছিলেন আন্দোলন দমন করতে সেই প্রতিনিধি – ইনসান আলি, তানিয়া শেঠ, অর্পিতা দাস, রাকেশ প্রামানিক, হাফিজুল গাজিদের একাংশ এবং তাদের সহকারী প্রতিনিধিদের অবৈধভাবে নিয়োগ করে দিয়েছেন। এমনকি জনৈক প্রতিনিধির স্ত্রীকে পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অবৈধভাবে।

পাশাপাশি লকডাউনে অজস্র অবৈধ নিয়োগ করা হয়েছে তার প্রমাণ পত্র আমাদের হাতে রয়েছে। সেখানে এসএমএসের মধ্যে দিয়ে মেধা তালিকার মধ্যে নাম না থাকা বা ফেল করা বা অনেক দূরের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *