অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৭ মার্চ: আজ গোপীবল্লভপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ডাক্তার খগেন্দ্রনাথ মাহাতোর সমর্থনে গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের বাহারুনা মাঠে সভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় প্রচুর জনসমাগম দেখেও মুখ্যমন্ত্রীর গলায় আক্ষেপের সুর। লোক দেখেও কোথায় যেন সন্দেহ। তিনি বলেন, আমি আমার সবটা উজাড় করে দিয়েছি আপনাদের কিন্তু বিজেপির টাকা এবং প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে লোকসভা ভোটে যেটা করেছেন এই বিধানসভা ভোটে যেন তা করবেন না। আমাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চাইলে এখানকার তৃণমূল প্রার্থী ডাক্তার খগেন্দ্রনাথ মাহাত এবং নয়াগ্ৰাম বিধানসভা প্রার্থী দুলাল মুর্মুকে জয়ী করুন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেন, বিহারে ভোটের সময় বিজেপি বলেছিল ভোটে জিতলে প্রত্যেক বিহারবাসীকে বিনা পয়সায় করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, কিন্তু এখনও ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমরা বাংলার প্রতিটি মানুষকে বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘোষণা করলেও সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে না কেন্দ্রীর সরকার। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রতিশ্রুতি দেন, এরপর ক্ষমতায় এলে প্রতিটি মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে রেশন, প্রতিটি বিধবা মহিলা পাবেন মাসিক ভাতা। বছরে দুবার হবে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। তিনি বলেন, ঝাড়গ্ৰামকে নতুন জেলা আমি করে দিয়েছি, জেলায় ইউনিভার্সিটি, মেডিক্যাল কলেজেরও ব্যবস্থা করেছি সেটডিয়াম করেছি, ব্রিজ করেছি। কিন্তু দু’বছর হল বিজেপি লোকসভায় ক্ষমতা দখল করলেও কিছু করেনি ঝাড়গ্ৰাম জেলার জন্য। এই ঝাড়গ্রামে যখন খুন হত তখন কেউ আসত না আমি তখন এসেছি, আর আমাদের সরকার আসার পর এই ১০ বছরে কোনও খুন হয়নি ঝাড়গ্রাম জেলায়। এখন ঝাড়গ্রাম জেলায় এত উন্নয়ন হয়েছে যে লোকে ঝাড়গ্রামকে জঙ্গল সুন্দরী বলে।

তিনি এদিন বক্তব্য শেষ করার আগে বলেন, “প্রথমে আপনারা এই ২৭ তারিখে খেলা শুরু করবেন আর বিজেপিকে ছক্কা মেরে বাউন্ডারির পার করে দেবেন। আপনাদের সাথে আবার দেখা হবে। আশা করি আপনারা আমাকে জেতাবেন।” পায়ে চোট লাগার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমি যে কষ্ট করে হুইলচেয়ারে করে আজ এখানে এসেছি জেতার পর আপনাদের সাথে দু পায়ে হেঁটে দেখা করতে আবার আসবো।


