আমাদের ভারত, ৮ মার্চ: সারা বিশ্বে ভারতীয় ঐতিহ্যের কথা ছড়িয়ে পড়ার পক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এমনটাই বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
কিছুদিন আগে কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাটের মন্দিরে গিয়েছিলেন যোগী। শনিবার সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানে এক তরুণ গাইড তাকে বলেছেন হিন্দু ধর্ম থেকে বৌদ্ধ ধর্মের সৃষ্টি। যোগী অভিযোগের সুরে বলেন, ভারতে কেউ একথা বললে ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শে বিশ্বাসীরা আপত্তি করতেন।
যোগী বলেন, কম্বোডিয়ার এক তরুণ জানে সে একজন বৌদ্ধ। আর কোথা থেকে বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি সেটাও সে জানে। সে তার অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু আপনি যদি ভারতে একথা বলেন, তাহলে অনেকের ধর্মনিরপেক্ষতা বিপন্ন হয়ে যাবে।
শনিবার অযোধ্যার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তৈরি গ্লোবাল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ রামায়ণ প্রকাশ করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এই বইটি ই-বুক ফরম্যাটে প্রকাশিত করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী বলেন, ভারতীয় প্রাচীন ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। তার দাবি সমাজের কয়েকটি অংশক সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে চলে, আর সেই জন্যই আমাদের দেশ নিজের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করতে শেখেনি।
তিনি অভিযোগের সুরে বলেন , যারা নিজেদের স্বার্থে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে তারা কখনই রেহাই পাবে না। যারা টাকার বিনিময়ে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালাচ্ছে তাদের শাস্তি দিতেই হবে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন রামায়ণ-মহাভারত পড়লে সবচেয়ে ভালো শিক্ষা হয়। হিন্দু পুরাণ পাঠ করলে দেশের উন্নতির দিক নির্দেশ পাওয়া যায়। তিনি আরোও বলেন, এখনও অনেকেই দাবি করে রামচন্দ্র অযোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীরাম জন্মভূমি আন্দোলন চলার সময় অনেক ইতিহাসবিদ নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন। অনেকে এমন বলেছিলেন অযোধ্যায় রাম জন্মগ্রহণ করেননি। তারা অযোধ্যাতেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। এই মানসিকতা কয়েকশো বছর ধরে ভারতকে তার প্রাপ্য গৌরব থেকে বঞ্চিত করেছে।
তিনি প্রাচীনতম তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন ভারতের ছেলের নাম অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ হয়েছিল। এখন অনেকেই সে কথা ভুলে গিয়েছে। তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ এখন পাকিস্থানে অবস্থিত। যোগী বলে ১৯৪৭ সালের আগে ওই এলাকা ভারতের মধ্যেই ছিল। প্রভু রাম তার ভাইয়ের ছেলেকে সেখানকার শাসক নিযুক্ত করেছিলেন।

