সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৬ মার্চ: “এখানে তৃণমূল সরকার বাংলাদেশে গরু কাটার জন্য পাচার করে। আর এক মন্ত্রী সেই নির্মম ঘটনার পক্ষ নিয়ে সাফাই দেয়। ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত না করে দিদি প্রশ্রয় দেন।” পুরুলিয়ার বলরামপুরে এই ভাবেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ।
এদিন বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমন করেন যোগী। তিনি বলেন, বাংলাকে তৃণমূল, কমিউনিস্ট আর কংগ্রেসের গুন্ডাগিরির আড্ডা করতে দেওয়া যাবে না। আর তাই আরও একবার সবাইকে লড়াইয়ের পথে নামতে হবে। পুরুলিয়ার বলরামপুরে বিজেপি প্রার্থী বানেশ্বর মাহাতোর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়ে এই ভাষাতেই মন্তব্য করলেন যোগী আদিত্যনাথ।

এদিন আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, “২ মে তৃণমূল সরকারের বিদায় সুনিশ্চিত।” বক্তব্যের মাঝে মমতা ব্যানার্জিকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “মমতা দিদি
জয় শ্রীরাম শুনলে রেগে যান। আর এখানে আমাকে জয়
শ্রীরাম নাম বলেই স্বাগত জানিয়েছেন। এখন মমতা দিদিও মন্দিরে গিয়ে চন্ডীপাঠ করছেন। এটাই পরিবর্তন, এটাই নতুন ভারত। প্রত্যেক মানুষকে ভগবানের স্মরণে যেতেই হবে।” একইসঙ্গে রাহুল গান্ধী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও নির্বাচনের সময় মন্দিরে মন্দিরে যান। মন্দিরে গিয়ে নামাজ পড়ার মতো বসে পড়েন। মন্দিরে কিভাবে বসতে হয় সেটাও জানে না।”
বিজেপি সরকারের একাধিক উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের নামে প্রশংসা করে তিনি বলেন, “‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ মোদীজির মন্ত্রে গরিবকে বাড়িঘর, বিদ্যুৎ সুবিধা, কৃষকদের সম্মান দেওয়ার সাথে সাথে সবাইকে ভগবানের উপর আস্থা রাখার উপর মজবুর করে দিয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট আর তৃণমূল সরকার বাংলাকে খোকলা করে দিয়েছে। বাংলা গরিবী, বেরোজাগারির দিকে চলে গিয়েছে। এমনকি তৃণমূলের গুন্ডাগিরির ফলে বাংলায় অরাজকতা বেড়ে চলেছে। তৃণমূল সরকার কেন্দ্র সরকারের সুযোগ সুবিধা পাওয়া থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত রেখেছে। আর এটাই মূল কারণ উন্নয়ন থেকে বাংলা বঞ্চিত হওয়ার।আর তাই মোদীজি, অমিত শাহ, আর জেপি নাড্ডার আহ্বানে বিজেপির কার্যকর্তারা বাংলার মানুষকে ন্যায় দেওয়ানোর জন্য আবার নির্বাচনী প্রচারে একসাথে এসেছেন। বাংলাকে তৃণমূল, কমিউনিস্ট আর কংগ্রেসের গুন্ডাগিরির আড্ডা করতে দেওয়া যাবে না। আর তাই আরও একবার সবাইকে লড়াইয়ের পথে নামতে হবে।”


