আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১২ জুলাই : আজ রথযাত্রা আর এই দিনে যাত্রাপালার বুকিং শুরু হয় ধুমধাম করে। কিন্তু এবছর করোনা আবহে তা একেবারেই ম্লান। করোনা যেন এক এক করে মানুষের সব রুজি রোজগার কেড়ে নিচ্ছে। যাত্রা বন্ধ থাকায় শিল্পীদের রুজি-রোজগার বন্ধ। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে যাত্রা শিল্পীরা। রথের চাকা গড়ানোর সাথে সাথে যাত্রাশিল্পীদের ভাগ্যের চাকা গড়াত। কিন্তু করোনা আর লকডাউনে যাত্রা শিল্পীদের সমস্ত রুজি রোজগার বন্ধ।

রথের দিন থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার শ্রীধরপুরে যাত্রার বুকিং শুরু হোত। কিন্তু গত বছর থেকে করোনার প্রকোপে নন্দকুমারের যাত্রা শিল্প অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সমস্ত যাত্রা জগতের কলাকুশলীরা এদিন নন্দকুমারের এসে কুশল বিনিময়ের সাথে সাথে সারা বছরের যাত্রার বুকিং এবং নতুন যাত্রার নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতো। সারাবছর যাত্রাশিল্পীরা তাকিয়ে থাকে রথযাত্রার এই দিনটির দিকে। কিন্তু করোনার প্রকোপ সমস্ত যেন তছনছ করে দিয়েছে। গত ‘বছর থেকে কোনও যাত্রা বুকিং হয়নি। যাত্রা শিল্পীরা এখন কোথাও চা দোকান, কোথাও সবজি দোকান, কেউ আবার জনমজুর কিংবা রাজমিস্ত্রির কাজ করছে।

কলকাতার চিৎপুরের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৪১ নং জাতীয় সড়কের চৌমোড় নন্দকুমার যাত্রাপাড়া হিসেবে পরিচিত। ছোটবড় মিলিয়ে যাত্রাদলের সংখ্যা প্রায় ৬০-১০০টি। এই যাত্রাশিল্পের সাথে যুক্ত শিল্পী কলাকুশলী সব মিলিয়ে রয়েছেন কয়েকহাজার মানুষ। করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের জেরে গত বছর থেকে যাত্রার শো না হওয়ায় রুজি রোজগার বন্ধ হয়ে ব্যাপক পরিমাণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন যাত্রাশিল্পীরা। সিজন খুলে গেলেও নতুন করে আদপেই যাত্রাপালার দল গঠন করা গেল না। নতুন করে না হলেও পুরানো যাত্রা দল নিয়েই এবারের যাত্রা পালা করতে প্রস্তুত কিন্তু সেখানে বাধার সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে লকডাউন এবং নাইট কারফিউ। তা নিয়ে যাত্রার পরিচালক থেকে যাত্রামালিকরা চিন্তায় রয়েছে। কেন না এক একটি যাত্রার দল তৈরী করতে কমপক্ষে ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এবছর যাত্রার শো কতটা হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে যাত্রার মালিকদের। এই আবহে আগামীবছর যাত্রায় নতুন করে বিনিয়োগ করে সেই টাকা ঘরে তুলতে পারবে কি না সন্দেহ তাদের। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে রিহার্সাল থেকে শো করার বিষয়ে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও সরকারি সাহায্যের মুখাপেক্ষী তারা।
যাত্রা শিল্পীদের দাবি, তারা কোনও রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায় না। সরকার কীর্তন শিল্পী কিংবা বাউল শিল্পী সহ বিভিন্ন শিল্পীদের ভাতা চালু করলেও যাত্রাশিল্পীদের জন্য কিছুই ভাবেনি। সবাই ভ্যাকসিন পেলেও যাত্রাশিল্পীদের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থাও করছে না সরকার। আমরা মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছি। গত দু’বছর ধরে রুজি-রোজগার সমস্ত আমাদের বন্ধ। কি করে সংসার চালাবো ভেবে উঠতে পারছি না।

এক যাত্রাশিল্পী জানিয়েছেন, তারা যাত্রা সংস্কৃতির মধ্যে জড়িত তাই অন্য কিছু কাজও করতে পারছেন না। এরপরেও যদি না সরকার শিল্পীদের দিকে দেখে তাহলে তাদের মৃত্যুবরণ করা ছাড়া আর কিছুই উপায় থাকবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ শিল্পীদের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে দ্রুত সমাজে যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিক রাজ্য সরকার। তাহলে হয়তো শিল্পীরা দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জোগাড় করতে সক্ষম হবে।কবে স্বাভাবিক হবে যাত্রাশিল্প এখন সেদিকেই তাকিয়ে যাত্রা শিল্পী থেকে যাত্রা ব্যবসায়ীরা।

