অনুব্রত মণ্ডলের মঙ্গল কামনায় বাড়িতে যজ্ঞের আয়োজন

আশিস মণ্ডল, বোলপুর, ১৪ আগস্ট: অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেপ্তার হওয়ার পর দিনই ছাদ থেকে যজ্ঞের প্যান্ডেল খুলে ফেলা হয়েছিল। সেই প্যান্ডেল আবার তৈরি করা হচ্ছে। সোমবার সেখানেই হবে মহাযজ্ঞ। তবে কি অনুব্রত মণ্ডলের ইচ্ছেতেই হচ্ছে মহাযজ্ঞ! কারও কারও মতে কন্যার সঙ্গে ফোনালাপের পরেই ফের যজ্ঞের প্রস্তুতি শুরু হল পুরো দমে। দলের নেতাদের সাফাই, অনুব্রত কন্যা-সুকন্যার ইচ্ছাতেই ‘পারিবারিক যজ্ঞের’ অনুষ্ঠান।

জানাগেছে, অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে নতুন করে যজ্ঞের আয়োজন অনুগামীদের। তিনি শিবের ভক্ত। তাই প্রতিবছর শ্রাবণের শেষ সোমবার ঘটা করে যজ্ঞের আয়োজন করেন তিনি। এবার সেই ব্যবস্থাই হচ্ছিল। কিন্তু মাঝেই ছন্দপতন। গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে সিবিআই হেফাজতে নেওয়ার ফলে সব লন্ডভণ্ড হয়ে যায়।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও শ্রাবণ মাসে বাড়ির ছাদে যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেইমতো ১৫ অগাস্ট, সোমবার, যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। এর জন্য কেনা হয়েছিল চাল, ডাল। এখন বাইরের ঘরে মজুত রয়েছে চালের বস্তা। বাড়ির ছাদে হয়ে গিয়েছিল প্যান্ডেল। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পরই বাতিল হয়েছিল সেই অনুষ্ঠান। প্যান্ডেল খোলার কাজ শুরু হয়েছিল। দলের কোনও কর্মীকেও বাড়ির কাছে দেখা যায়নি সেই সময়। এবার কন্যা সুকন্যার তত্ত্বাবধানে হবে এই মহাযজ্ঞ। লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, “১৫ আগস্ট অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে মহাযজ্ঞের আয়োজন হচ্ছে। তবে অনুষ্ঠানটি সম্পুর্ণ পারিবারিক ভাবে হচ্ছে। ওনার কন্যার তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে।” 

কিন্তু কেন ফের যজ্ঞের আয়োজন? 
দলীয় সূত্রে খবর, এর আগে অনুব্রত মণ্ডলের করা আয়োজন কখনওই ভেস্তে যায়নি। তাই দাদা সশরীরে উপস্থিত নেই তো কী হয়েছে! তাঁর মঙ্গল কামনায় ফের আটঘাট বেঁধে মহাযজ্ঞের আয়োজন শুরু করল কেষ্টদার ‘ভাইরা’। নির্দিষ্ট দিন অর্থাৎ ১৫ আগস্টেই তা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এতে অল্প হলেও মনে বল পেয়েছে কর্মী-সমর্থকরা। ফলে ফের অনুব্রতবাবুর বাড়ির ছাদে বাঁশ, ত্রিপল খাটিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তাই ইতিমধ্যেই ফের মহাযজ্ঞের আয়োজন করতে উঠে পড়ে লেগেছে দলের কর্মীরা। ফের পুরোহিতদের আসতে বলা হয়েছে। বেলকাঠ, ঘি, সহ অন্যান্য সামগ্রী আজই বাড়িতে পৌঁছে গেছে। 

কর্মীদের যুক্তি, কিন্তু এখনও অবধি দাদার কোনও আয়োজন ভেস্তে যায়নি। তাই পুনরায় ভাবনাচিন্তা করে কর্মী-সমর্থকরা মহাযজ্ঞের আয়োজন শুরু করেন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি পর্ব। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “দাদার গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমরা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু কেষ্টদাই আমাদের শিখিয়েছেন, কীভাবে বিপদের মোকাবিলা করতে হয়। তাই তাঁর মঙ্গল কামনায় মহাযজ্ঞ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *