মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধ অমান্য করে দেদার তোলাবাজি ও ওভারলোডিং হিলিতে, লিখিত অভিযোগ জেলাশাসককে

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ ফেব্রুয়ারি: মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হিলিতে অবাধ ওভারলোডিং ও তোলাবাজি করার অভিযোগ। প্রতিবাদে সরব ব্যবসায়ীরা, সরব হয়েছেন লরি মালিকরাও। ঘটনা জানিয়ে জেলাশাসক ও আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিককে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন পতিরাম ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন।

ভারত–বাংলাদেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ পণ্য বোঝাই লরি বাংলাদেশ যায়। চাল, গম, পেঁয়াজ, ফল, পাথর সহ বেশকিছু জিনিস এই সীমান্ত দিয়ে রপ্তানি করা হয়। পাথরের চাহিদা বাংলাদেশে প্রচুর থাকায় বর্তমানে হিলি আন্তর্জাতিক বন্দর পাথর রপ্তানির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আর যাকে ঘিরে হিলি থেকে পতিরাম এলাকায় ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছে পাথরের ডাম্পিং। এই ডাম্পিং থেকেই ওভারলোড লরি বাংলাদেশে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। আর এই ওভারলোডের কারনেই লরিপ্রতি মোটা অঙ্কের টাকা তোলে কিছু অসাধু ব্যক্তি। উত্তরবঙ্গ সফরে এসে প্রশাসনিক বৈঠক করে এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সরব হয়েছিলেন এই এলাকায় ওভারলোডিং সিস্টেম নিয়েও। আর যারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে হিলিতে বন্ধ করা হয় ওভারলোডিং সিস্টেম। বিষয়টি নিয়ে কড়া নজর রাখবার নির্দেশ দেওয়া হয় জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিককে। বেশ কিছুদিন এই ব্যবস্থা চললেও, পুরনির্বাচন শেষ হতেই ফের সীমান্তে শুরু হয় চরম অব্যবস্থা। ওভারলোডিং থেকে তোলাবাজি সবকিছুই চলছে দেদারে। শুধু তাই নয় অবৈধ ট্রাক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তোলাবাজি করবার অভিযোগও উঠেছে কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। যার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী ও লরি মালিকরা। যা নিয়ে জেলাশাসক ও আর টিও কে একটি লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিক।

শুভঙ্কর মন্ডল, বিশাল মন্ডল নামে ট্রাক মালিকরা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে ওভারলোডিং চলছে হিলিতে। আর যার জন্য কারো কাছে চার হাজার আবার কারো কাছে পাঁচ হাজার টাকা তুলছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। এসব বন্ধ হওয়া উচিত। আর যার জন্যই তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ব্যবসায়ী সোনা আগরওয়াল জানিয়েছেন ওভারলোডিং এর প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কড়া হাতে প্রশাসনের এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত।

জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিক সন্দীপ সাহা জানিয়েছেন, এখনো এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ হাতে পাননি। তবে যখন বিষয়টি সামনে এসেছে তখন তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *