পুরনো পেনশন নীতি কার্যকর করার দাবিতে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মী বিক্ষোভ

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ মার্চ: পুরনো পেনশন নীতি চালুর দাবিতে আজ থেকে ফের আন্দোলনে নেমেছে ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জমিহারা পরিবার থেকে আসা গ্রুপ সি, ডি ও আপগ্রেডেশন গ্রুপ বি কর্মীরা। গত ১ নভেম্বর থেকে মাসাধিক কাল রোজ ১ ঘন্টা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা।

তাদের এই দাবি ও আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে ডিভিসির আইএনটিইউসি, সিটু, ইউটিইউসি, বিএমএস, সহ সমস্ত স্থায়ী কর্মী ইউনিয়ন গুলি। তাদের দাবি, অবিলম্বে সকল ভূমিহারা পরিবার থেকে ডিভিসিতে স্থায়ী চাকরি পাওয়া কর্মীদের পুরানো পেনশন স্কিমের আওতায় আনতে হবে। যতদিন না তাদের দাবি মানা হচ্ছে ততদিন এভাবে বিক্ষোভ চলবে। প্রয়োজনে তারা পেন ডাউন করে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন। পেনশন থেকে বঞ্চিত এই সব কর্মীরা ডিভিসির সদর দপ্তর কলকাতার ডিভিসি টাওয়ারর্সে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু ৩ মাস কেটে যাবার পরও কোনো সদর্থক ভূমিকা না দেখে সিটু আইএনটিইউসি, স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন ও বিএমএসের যৌথ মঞ্চ মঙ্গলবার মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশন দেয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আটের দশকের শেষে ডিভিসি এমটিপিএসের নির্মাণ কাজ শুরু করে। কারখানা করতে এখানের বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষ জমি ও বাস্তু বাড়ি অধিগ্রহণ করে দেয় রাজ্য সরকার। জমি ও বাস্তুহারাদের দাবি মত ১৯৯৪ সালে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে ডিভিসি ও রাজ্য  সরকারের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয় ৫২০ জন ভূমিহারাকে ডিভিসিতে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে। এবং লিখিত চুক্তিতে বলা হয় প্রকল্পের ৩ নম্বর ইউনিট চালু হওয়ার সাথে সাথে এই সমস্ত ভূমিহারাদের নিয়োগ করা হবে।

আন্দোলনকারী কর্মীদের আহ্বায়ক দেবাশিস মুখার্জি বলেন, ১৯৯৮ সালে ডিভিসির ৩ টি ইউনিট থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলেও ভূমিহারা পরিবার থেকে সকলকে নিয়োগ করা হয়নি। ২০০৪ সালের আগে পর্যন্ত ২৮০ জনকে নিয়োগ করা হলেও বাকিদের নিয়োগ হয় ২০০৮ সালে। ইতিমধ্যে ভারত সরকার একটি সার্কুলার প্রকাশ করে জানান, ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালের পরে যারা কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় নিয়োগ হয়েছেন তারা পেনশন প্রকল্প থেকে বাদ যাবেন। দেবাশিস বাবু আরো বলেন, পরে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের আরেকটি সার্কুলারে বলা হয় ১ জানুয়ারি ২০০৪ এর আগে যাদের ইন্টারভিউ হয়ে প্যানেল ভুক্ত হয়ে আছেন তারা পেনশন আওতার সুযোগ পাবেন। আন্দোলনকারী কর্মী সদানন্দ মাজি, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, প্রশান্ত মন্ডল, মৃত্যুঞ্জয় মাজিদের দাবি, তারা সকলেই চুক্তিমত ১৯৯৪ সাল থেকেই প্যানেল ভুক্ত। ডিভিসি গাফিলতি করে প্যানেলের অর্ধেক চাকরি প্রার্থীকে নিয়োগ করে বাকিদের বঞ্চিত করেছে।  ডিভিসিতে জমি দিয়ে এক শরিককে ১৯৯৬ সালে চাকরি দেওয়া হয় অন্য শরিকে দেওয়া হল ২০০৮ সালে। প্রথম জন পেনশন পাবেন অথচ দ্বিতীয জন পাবেন না কেন? এই নিয়ে আমাদের আন্দোলন।

এ বিষয়ে এমটিপিএসের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প প্রধান সুধীরকুমার ঝাঁ বলেন, বিষয়টি আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে একজন কর্মী অবসর নেওয়ার পরে যদি পেনশন না পান তাহলে তার যে দুর্দশা হয় সেটা অনুভব করতে পারি। ওনারা যে দাবি পত্রটি দিয়েছেন সেটি বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *