আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২৪ আগস্ট: পুরনো ভগ্নপ্রায় একটি বাড়ি ভাঙ্গার সময় কার্ণিশের চাঙর খসে চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এক নির্মাণ শ্রমিকের। সিউড়ির মালিপাড়া এলাকায় ঘটা এই ঘটনায় জখম হয়েছেন অপর এক নির্মাণ শ্রমিক।
জানাগেছে, দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই সিউড়ির মালিপাড়ায় থাকা পুরোনো বাড়িটি ভাঙ্গার কাজে হাত লাগিয়েছেন বাড়ির মালিক চিকিৎসক গৌরীশঙ্কর দে। মঙ্গলবার দুপুরে সেই বাড়িটির একাংশ ভাঙ্গার কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। সেই সময় বাড়িটিতে থাকা একটি কার্নিশ ভেঙ্গে পড়ে। সেই সময় নীচে দাঁড়িয়েছিলেন শ্রমিক মাইকেল সরেন (৩৫)। তার উপর ভেঙ্গে পড়ে চাঙরটি। কার্তিক কিস্কু নামে অপর শ্রমিক ছিলেন কার্ণিশের উপর অংশে। তিনিও চোট পান পায়ে। জখম মাইকেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তরতাজা এক যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে মাইকেল বাসস্থান সিউড়ি থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে থাকা কচুজোড় কলোনীর আদিবাসী পাড়ায়।
অপর জখম শ্রমিক কার্তিক কিস্কুর কথায়, “মালিক দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ি ভাঙ্গার কাজ তদারকি করছিল। তাড়াতাড়ি কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। সেই সময় আমি কার্নিশের উপরের অংশে ছিলাম। নীচে ছিল মাইকেল। তাকে সরে যেতেও বলেছিলাম। কিন্তু তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে ঘটনা ঘটে গেছে।”
কচুজোর কলোনী আদিবাসী মহল্লায় স্ত্রী, ছোটো ছোটো তিন সন্তানকে নিয়ে থাকেন মাইকেল সরেন। তিনি সেখানকার জামাই। শ্বশুরবাড়িতে থাকেন পরিবার নিয়ে। তার মৃত্যুতে ছোট ছোট এক মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন মাইকেলের স্ত্রী। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা মহল্লায়।
এদিকে বাড়ির মালিক চিকিৎসক গৌরীশঙ্কর দে জানিয়েছেন, ‘‘দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই পৌরসভার অনুমত নিয়ে বাড়ি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছিলাম। সেই দুর্ঘটনায় ঘটে গেল। খুবই দুর্ভাগ্যজনক। অত্যন্ত খারাপ লাগছে ওই শ্রমিক ও তার পরিবারের জন্য।’’

