সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ জুন:
বিশ্বের সর্বোচ্চ জনপদের পয়েন্ট লাদাখের খারদুঙ্গার মাটিতে জাতীর সেবায় ডিভিসির ভূমিকার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সাথে সাথে ডিভিসির পতাকা স্হাপন করলেন ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী অরুময় মন্ডল।

গত ১০ জুন মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাইক নিয়ে তিনি খারদুঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ২০ জুন সেখানে পৌঁছান। ২২ দিনের সফরে ৭ হাজার কিমি পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধেয় তিনি যখন মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পে ফিরলেন তখন প্রকল্পের আধিকারিক থেকে কর্মীরা তাকে ফুলের মালায় বরণ করে নিয়ে সংবর্ধিত করলেন। তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার আর কে অনুভবি, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জিত কুমার রজক, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অশোক কুমার তেওয়ারি, রাজীব রঞ্জন, আইএনটিইউসি নেতা অরিন্দম ব্যানার্জি, সিটুর সারা ভ্যালি কার্যকরী সভাপতি সমীর বাইন, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন কামগার সংঘের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় মাজি, মজদুর সংঘের সম্পাদক প্রশান্ত মন্ডল, স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক বিদ্যুৎ কর্মকার ও অগনিত সহকর্মী।
সাংবাদিকদের সামনে অরুময় মন্ডল ডিভিসির ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ডিভিসি হল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর মানস কন্যা। ১৯৪৮ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের উদ্বাস্তু শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য দামোদর নদকে কেন্দ্র করে ডিভিসি প্রতিষ্ঠা করেন নেহেরু। দামোদরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাধার নির্মাণ করে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ডিভিসি গড়ে উঠলেও গত ৭৭ বছরে ভারতীয় বিদ্যুৎ মানচিত্রে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। এই ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের প্রথম এবং একমাত্র সেলিব্রেটি শ্রমিক বুধনি মেঝেন এর কাহিনী শোনাতেই তার যাত্রা বলে মন্তব্য করেন অরুময়।
তিনি বলেন, ডিভিসি বর্তমানে জলবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুৎ মিলিয়ে সাড়ে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ডিভিসির বিদ্যুতে ভারতীয় রেল চলছে, ইসিএল বিসিসিএল আমাদের বিদ্যুৎ না পেলে অচল। বাংলাদেশ যাচ্ছে আমাদের বিদ্যুৎ। সব থেকে বৃহৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ডিভিসির, অথচ অনেকেই যেন ডিভিসির নামই শোনেনি। দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎ সংস্থা আমাদের সরবরাহ লাইন ভাড়া নিয়ে বিদ্যুৎ পাঠায়। নয়ের দশকে এশিয়ান গেমস আমাদের বিদ্যুৎ নিয়ে হয়েছিল। ডিভিসির সেচ ক্যানেলের জন্য ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গের শষ্যগোলা বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি, হাওড়ার কৃষিতে পূর্ণতা পেয়েছে। তিনি বলেন, বুধনি মেঝেনের কথা দেশবাসী জানেনই না। তিনি ছিলেন ডিভিসির প্রথম শ্রমিক। জওহরলাল নেহরু তার হাত দিয়েই পাঞ্চেত জলাধার উদ্বোধন করিয়ে তার গলায় মালা পরিয়ে দিয়েছিলেন। পন্ডিতজী না জানলেও তাদের আদিবাসী সমাজ বুধনি মেঝেনকে সমাজচ্যুত করেছিলেন জওহরলালের কাছ থেকে মালা পরার অপরাধে। তাকে জওহরলালের স্ত্রী বলে আখ্যায়িত করেছিল তার সমাজ। সেই বুধনি মেঝেনের করুন কাহিনি শুনে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নির্দেশে বুধনি মেঝেনকে চাকরি দেয় ডিভিসি। গত ১৮ নভেম্বর নেহরুর বউ বলে খ্যাত বুধনি মেঝেন পাঞ্চেতেই ডিভিসি আবাসনে প্রয়াত হন।

ডিভিসির সর্ব বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাঁকুড়ার মেজিয়ায় অবস্থিত। এই বুধনি মেঝেন, ডিভিসি, মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্প ও ডিভিসির সামাজিক কর্মকান্ডের কথা শুনে ভিন রাজ্যের মানুষ গুগল সার্চ করে সন্দেহ নিরশন করেছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জার্মানি, ডেনমার্ক প্রভৃতি দেশের পর্যটকরা তার কাছে ডিভিসি ও বুধনি মেঝেনের গল্প শুনে নোট ডাউন করেছেন। ডিভিসির ইতিহাস জানতে তারা অনেকেই সংস্থার কলকাতার সদর দপ্তরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

