রোজ ১৮ ঘন্টা কাজ করেন! কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ৭৩-এ পা দেওয়ার মোদীর ফিটনেসের পেছনে?

আমাদের ভারত, ১৭ সেপ্টেম্বর: এই মুহূর্তে বিশ্বের জনপ্রিয়তম নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আজ তার জন্মদিন। ৭৩-এ পা দিলেও একেবারে তরতাজা যুবকের সমান বলিষ্ঠ তিনি। নিয়ম করে রোজ ১৮ ঘন্টা কাজে ব্যস্ত থাকেন প্রধানমন্ত্রী। শরীরচর্চা করতে ভোলেন না কোনো দিন। ফিটনেস নিয়ে তিনি সব সময় সচেতন। শুধুমাত্র কি শরীরচর্চা? এই ফিটনেসের পেছনে লুকিয়ে আছে কোন রহস্য?

একাধিক অনুষ্ঠানে ফিটনেস নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে মোদীকে। তবে তার ফিট থাকার রহস্যের বেশ খানিকটা লুকিয়ে আছে তার ডায়েট চার্টে। ঘরোয়া খাবার খেয়ে সুস্থ থাকেন মোদী। নিজেকে সুস্থ রাখতে কঠিন ডায়েট মেনে চলেন তিনি। নিয়ম করে উপবাস করেন মোদী। যোগব্যায়ামের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ফিট ইন্ডিয়া আন্দোলনের সময় একবার মোদী বলেছিলেন তিনি সজনে শাকের পরোটা খান। সজনে শাকের পাতা থেকে বীজ সবটাই শরীরের কাজে লাগে। সেই সঙ্গে প্রতিটি অংশেই রয়েছে ঔষধি গুণ। সজনে পাতা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় সায়টিকা বাতের জন্য এটি উপযোগী। এছাড়াও লিভারের জন্য ভালো। কারণ এই পাতা সহজেই হজম হয়ে যায়। সেইসঙ্গে পেটে ব্যথা, গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্যান্য সমস্যা দূরে রাখে।

সপ্তাহে তিন দিন গুজরাটের স্পেশাল খিচুড়ি খান মোদী। গুজরাটি রেসিপিতেই তৈরি ভাগরেলি খিচুড়ি। কম মসলাদার খাবার খেতে পছন্দ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে মুগ ডাল চাল হলুদ গুঁড়ো নুন দিয়ে রান্না করা হয় এটি। এরপর সরফি, রসুন কারিপাতা, ধনে গুঁড়ো দিয়ে দেওয়া হয়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিনই এই খিচুরি খান তিনি। সহজেই হজম হয় এটি। একইসঙ্গে ভিটামিন-বি, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাঙ্গানিজের সমস্ত প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ এই খিচুড়িতে প্রদাহ বিরোধী একাধিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, বাত, ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে এই খিচুড়ি।

রোজ এক টুকরো কাঁচা হলুদ খান প্রধানমন্ত্রী। আয়ুর্বেদে কাঁচা হলুদের উপকারিতা কতখানি সে বিষয়ে নতুন করে কিছু জানানোর নেই। আয়ুর্বেদে সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ হিসেবে হলুদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হলুদের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি টিউমার, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিভাইরাল সহ একাধিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

রোজ এক বাটি টক দই খান প্রধানমন্ত্রী। বাড়ির বাইরে থাকলেও বাদ পড়ে না দই খাওয়া। চিকিৎসক পুষ্টিবিদেরা পরামর্শ দেন রোজ একবাটি করে টক দই খাওয়ার। টক দই খেলে দাঁত মাড়ি হার্ট সবটাই ঠিক থাকে। হার্টে গুরুতর সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া যায়। দইয়ে থাকে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি টুয়েলভ, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম।

এছাড়াও খুব দামী একটি মাশরুম রোজ খান মোদী। তার নাম হিমালায়ান মাশরুম। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক পুষ্টিকর উপাদান। এই মাশরুমকে মরেল মাশরুম বলা হয়। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি। লিভারকে ডিটক্স করতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই মাশরুমের জুড়ি মেলা ভার। হার্টের রোগীরা এই মাশরুম খেতে পারলে খুব ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *