পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩০ আগস্ট: সীমান্তে অতি সক্রিয় নারী পাচার চক্র। দামি মোবাইল উপহার দিয়ে কিশোরীদের পাচার করার অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল হইচই পরিস্থিতি দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে। স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে একই গ্রামের দুই কিশোরী আচমকা উধাও হবার পরেই সামনে এসেছে নাবালিকা পাচারের এমন অভিনব ঘটনা। যা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে সরাসরি পাচারের অভিযোগ তুলেছেন নিখোঁজ কিশোরীর পরিবারের লোকেরা৷ যা নিয়ে ইতিমধ্যে হিলি থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে নিখোঁজ কিশোরীর পরিবারের লোকেরা। তবে ঘটনার দু’দিন বাদেও কিশোরীদের কোনও সন্ধানই করতে পারেনি হিলি থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের খবর অনুযায়ী, হিলির ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাহাট গ্রামের বাসিন্দা বছর সতেরোর পিপাসা বিশ্বাস ও বছর পনেরোর সোমা ভুঁইমালী। পিপাসা বিশ্বাস পারিবারিক কারণে মামার বাড়িতেই থাকত। হিলির মুরালিপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। অপরদিকে সোমা ভুঁইমালী হিলির ত্রিমোহিনী হাইস্কুলের ছাত্রী ৷ পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার সকালে স্কুলের উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বেরোয় ওই দুই কিশোরী। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়ে গেলেও তাদের কোনও খোঁজ পায়নি পরিবারের লোকেরা। এরপরেই লিখিত অভিযোগ জানিয়ে হিলি থানার দ্বারস্থ হন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। যে অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে পুলিশের কাছে। যেখানেই পুলিশ জানতে পারে, হরিয়ানার গুরুগাঁওয়ের বাসিন্দা নিয়তি মালী হিলির চাঁপাহাট গ্রামের বিউটি মালী নামে এক কিশোরীকে মোবাইল ফোন উপহার দিয়েছিলেন। গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা তথা এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত নিয়তি মালীর বাবার বাড়ি চাপাহাট গ্রামেই বলে জানতে পারে পুলিশ। যিনি পঞ্চায়েত নির্বাচনে চাঁপাহাট গ্রামে এসেছিলেন। এরপরেই মোবাইল উপহার দেওয়ার সূত্র ধরে প্রথমে বিউটি মালীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যার কাছ থেকেই তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারে অভিযুক্ত নিয়তি মালী ওই গ্রামের তিন কিশোরীকেই মোবাইল উপহার দিয়েছিল। যাদের মধ্যে একজন ফেরত দিলেও বাকিরা তা দেয়নি। আর এতেই অপহৃত কিশোরীদের পরিবারের লোকেদের অনুমান, পাচারের অভিপ্রায় নিয়েই ওই দুই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছে।
অপহৃত কিশোরীর বান্ধবী বিউটি মালী বলেন, ওই মহিলা আমাদের মোবাইল দিয়েছিল। তারপর মোবাইলটি লুকিয়ে রেখেছিলাম। পরে মায়ের হাতে ধরা পড়ে যাই। তখন পরিবারের সকলে আমাকে বোঝায়৷ তারপরে মোবাইল ফেরত দিই। ওরা আমাকে শুধু বলেছিল, মোবাইল নিয়ে ভালো করে চলবি। পরিবারের সকলের কাছে মোবাইল রয়েছে, তোর কাছে একটা রাখ বলে দিয়েছিল।
পিপাসা বিশ্বাসের মামা সুজয় মহন্ত বলেন, সোমবার থেকে আমার ভাগ্নী ও সোমা ভুঁইমালী নিখোঁজ হয়ে রয়েছে। অনেক খোঁজ করার পরে হিলি থানায় অভিযোগ জানানো হয়। চাঁপাহাট গ্রামেরই মেয়ে নিয়তি মালী। বৈবাহিক সূত্রে গুরুগাঁয়ের বাসিন্দা। ওই নিয়তি মালী আমার ভাগ্নী, সোমা ভুঁইমালী ও বিউটি মালীকে চক্রান্ত করে মোবাইল উপহার দিয়েছিল। তারপরই বাচ্চা মেয়েগুলোকে ফাঁদে ফেলে পাচারের যড়যন্ত্র করেছে। আমরা সকলে মেয়েদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমাদের মেয়েগুলোকে ঘরে ফিরিয়ে দিতে পুলিশের কাছে অনুরোধ জানাই।
সোমা মালীর দাদু শ্রীবাস মালী বলেন, বাচ্চা মেয়েগুলোকে মোবাইলের প্রলোভন দিয়ে নিয়ে গিয়েছে৷ আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। আমাদের মেয়েকে সুস্থ ভাবে ঘরে ফিরিয়ে দিতে পুলিশের কাছে প্রার্থনা করছি।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্তে শুরু করেছেন তারা।

