আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৫ এপ্রিল: ছাগল দেওয়ার নামে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ডেকে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে বের হওয়ার নির্দেশ দিল তৃণমূল। মহিলাদের অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারে না বের হলে কোনো সরকারি সুবিধা মিলবে না বলে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনই ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক এলাকায়।
ছাগল দেওয়া হবে খবর পেয়ে রবিবার সকাল থেকে রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বহু মহিলা বিডিও অফিসে ব্লক প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরে হাজির হন। ছুটির দিনে অফিস বন্ধ থাকায় তাদের ডাকা হয় পাশেই তৃণমূল কার্যালয়ে। তবে এদিন ছাগল দেওয়া না হলেও, ছাগল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এমনটাই দাবি এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হতেই সুর চড়িয়েছে বিজেপি। দলের দাবি, তৃণমূল হার নিশ্চিত জেনে এখন মুরগি ও ছাগল দেওয়ায় প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রচারে মহিলাদের অংশ গ্রহণ করানোর চেষ্টা করছে।

রামপুরহাট বিধানসভার কুসুম্বা অঞ্চলের রামরামপুর গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা রবিবার রামপুরহাট -১ নম্বর ব্লক প্রাণী সম্পদ ও বিকাশ কেন্দ্রে হাজির হন। তাদের দাবি, কুসুম্বা গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার স্ত্রী জানিয়েছেন, এদিন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ছাগল দেওয়া হবে। সেইমতো তারা ছাগল নিতে এসেছেন। এসে দেখেন অফিস বন্ধ। তারপর তাদের তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। মহিলাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে একটি করে ডাইরি করে দেওয়া হবে। সেই ডাইরিতে ভোট প্রচারে অংশ গ্রহনের হাজিরা লেখা হবে। তারপর তাদের বিনামূল্যে ছাগল দেওয়া হবে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রীরা। তাদের কটাক্ষ, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে মহিলাদের ছাগল, মুরগি দেওয়ার ভাঁওতা কথা দিচ্ছে।
কুসুম্বা অঞ্চলের মহিলারা বলেন, “গ্রামের সুরেশ মণ্ডলের স্ত্রী ছবি মণ্ডল আমাদের ডেকেছে। আমরা রান্নাবান্না ফেলে বিডিও অফিসে ছুটে এসেছি ছাগল পাব বলে। এসে দেখি অফিস বন্ধ। তারপর তৃণমূল পার্টি অফিসে ডেকে দলের হয়ে প্রচারে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়। যারা প্রচারে বের হবে তাদের নাম ডায়রির পাতায় হাজিরা দেওয়া হবে। প্রচারে না বের হলে সরকারি সুবিধা মিলবে না বলে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়”।
বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য নেত্রী নীতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল এটাও ভুলে গিয়েছে যে আজ রবিবার। মহিলাদের প্রলোভন দিয়ে ডেকে হয়রানি করছে। তৃণমূল মানেই ঠকবাজ। ওরা বুঝে গিয়েছে আর রাজ্যে ক্ষমতায় থাকবে না। তাই রবিবারে মহিলাদের ডেকে হয়রানি করেছে”।
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়ার পরও মহিলারা তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়েছে। তাই এবার মুরগি, ছাগল দেওয়ার নামে প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাদের ঠকাচ্ছে। তাদের প্রচারে বের হতে বাধ্য করছে। এই নারী শক্তিই ভাঁওতার জবাব দেবেন।”
রামপুরের সুরেশ মণ্ডল বলেন, “আমার স্ত্রী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। তবে কাউকে ছাগল দেওয়ার নামে ডাকা হয়নি। যারা বলছেন তারা মিথ্যা বলছেন।”
তৃণমূলের কুসুম্বা অঞ্চল সভাপতি রুদ্র প্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, “অভিযোগ ঠিক নয়, এটা বিজেপির চক্রান্ত। তারাই কিছু মহিলাকে দলের বদনাম করতে পাঠিয়েছিল। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করব।”

