“হাওড়া, আলিপুরদুয়ার বীরভূমেও নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে মহিলাদের, এটা কি মণিপুরের চেয়ে কম দুঃখজনক?” মমতাকে পাল্টা দিলেন সুকান্ত

আমাদের ভারত, ২১ জুলাই: মণিপুরের ঘটনা নিয়ে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, আর তারপরে বাংলাতেও এই একই ধরনের একাধিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। একুশে জুলাই- এর মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মণিপুরের ঘটনার চূড়ান্ত সমালোচনা করেছেন, তখনই একুশের সমাবেশ শেষ হওয়ারর কয়েক মিনিটের মধ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করেই হাওড়া জেলার পাঁচলায় অমানবিক নারী নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে সরব হয়েছেন সুকান্ত। বিজেপির এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রার্থীকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এটা কি মণিপুরের থেকে কিছু কম দুঃখজনক ঘটনা?

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মণিপুরে মহিলাদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পাল্টায় মমতার জমানায় বাংলায় নারী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপিও। শুক্রবার একুশে জুলাই সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করেছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও সংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। সেখানে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের একাধিক ঘটনায় মহিলাদের বিবস্ত্র করেও অত্যাচার করা হয়েছে। কিন্তু তার কোনো ভিডিও না থাকায় সবাই চুপ। তার প্রশ্ন এদের বিচার কে দেবে?

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমাদের বিপক্ষ দল মণিপুরের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। মণিপুরের ঘটনা হৃদয়বিদারক। আমরা তার নিন্দা করি। এই ধরনের ঘটনা কোথাও ঘটা উচিত নয়। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচলায় গ্রাম সভায় বিজেপির হয়ে দাঁড়ানোর জন্য এক জন মহিলা বিজেপি কর্মীকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে। এই ঘটনা কি মণিপুরের ঘটনার থেকে কম দুঃখজনক? কিন্তু এই ঘটনার কোনো ভিডিও নেই। কারণ সেখানে ভিডিও করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ও গুন্ডারা কাউকে অনুমতি দেয় না।”

সাম্প্রতিক আরও ঘটনার উল্লেখ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আজ বাংলার সংবাদমাধ্যমে দুটি খবর ছেপেছে। একই দিনে আলিপুরদুয়ার ও বীরভূমে দু’জন মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে। তার মধ্যে একজনকে আবার নগ্ন করে গাধার পিঠে চড়িয়ে ঘোরানো হয়েছে। কারণ যাই হোক, মহিলাদের সম্মান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে ছেলে খেলা হচ্ছে তা উদ্বেগের। আর এই ধরনের ঘটনা আজ থেকে নয়, ২০২১ সালে নির্বাচনের পর থেকেই ঘটে চলেছে।”

তাঁর দাবি, “এন এইচ আর সির রিপোর্টে এইকথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।” সুকান্ত মজুমদার জানান, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এক বিজেপি কর্মীর ছেলেকে ফোন করে তৃণমূল নেতা হুমকি দিয়েছে, তোর মাকে বল মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে নইলে ভালো হবে না। শেষে একজন ছেলেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলেছে তোর মায়ের সঙ্গে আমাকে শুতে দিবি? তিনি দাবি করেন, “কল রেকর্ডিং রয়েছে আমাদের কাছে। প্রকাশ্যে কথা বলতে আমারও ঘৃণা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের ওপর যে ধরনের অত্যাচার হচ্ছে তা প্রকাশ্যে এলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারাদেশে মুখ দেখাতে পারবেন না।”

অন্যদিকে রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ৫ আগস্ট বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাও-এর কর্মসূচি নিতে বলেছেন। এটা কোন ধরনের রাজনীতি? একজন মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করতে বলছেন। বিজেপির ব্লক স্তরের নেতার বাড়ি ঘেরাও করতে হবে। বিজেপি নেতাকে ৮ ঘন্টা ঘরে ঢুকতেও দেবেন না বেরোতেও দেবেন না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *