সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৮ সেপ্টেম্বর: দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিবাদের জেরে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে এক মহিলাকে খুনের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার মানিকহীরা গ্রামে৷ পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম কানন রায় (৬২)৷ তাকে খুনের অভিযোগে সমীর মল্লিক নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মৃত কাননদেবীর পরিবারের অভিযোগ তারা বিজেপি করেন, সেই কারণে রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি নিরুপম রায়ের নির্দেশে সমীর তাকে খুন করেছে। আর এই অভিযোগ তুলে, খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার ক্ষুদ্ধ বিজেপি কর্মীরা নিরুপমের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে নিরুপমকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়৷

নিহত মহিলার পরিবারের অভিযোগ, ‘সমীর মল্লিক এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। সে নিরুপম রায়েক ঘনিষ্ট। সমীরের প্রতিবেশী কানুন রায়ের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে৷’ অভিযোগ সমীর রোজ কানন দেবীর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গালিগালাজ করত৷ বুধবার রাত এগারোটা নাগাদ ফের গালিগালাজ করলে প্রতিবাদ করেন কানন দেবীর ছেলে জয়ন্ত রায়৷ এরপর সমীর এবং তার পরিবারের লোকেরা জয়ন্তর উপর চড়াও হয়। জয়ন্তর স্ত্রী এবং মা বাধা দিতে গেলে তাদের মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ৷ বাঁশের আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন কানন দেবী। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷
এব্যাপারে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি নিরুপম রায়ের বক্তব্য, ‘দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিবাদের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। যে অভিযুক্ত পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাইঘাটার মানিকহীরা গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার ওসি নিজে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। অভিযুক্ত সমীর মল্লিককে পুলিশ গ্রেফতার করে এদিন দুপুরেই বনগাঁ আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।

