আমাদের ভারত, ৮ এপ্রিল: ২৬- এর নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন আরজি কর হাসপাতালের নিহত তরুণী চিকিৎসক অভয়ার মা। এদিকে সিপিএমের হয়ে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন তামান্নার মা। এবার বিজেপি হয়ে প্রচার শুরু করলেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার জাফরাবাদ গ্রামের মৃত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের স্ত্রী পারুল দাস ও পিংকি দাস।
বুধবার দুপুরে শামসেরগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী ষষ্ঠীচরণ ঘোষের সমর্থনে প্রচার করা হয়। ধুলিয়ান পুরসভার দশ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপি মহিলা মোর্চার নির্বাচনী কর্মিসভায় অংশগ্রহণ করেন দু’জনে।
জেলা বিজেপি মহিলা মোর্চার সভাপতি সুতপা মুখোপাধ্যায় কর্মিসভায় মৃত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল দাস ও তার বৌমা মৃত চন্দন দাসের স্ত্রী পিংকি দাসকে আমন্ত্রণ জানান।তাদের আমন্ত্রণে কর্মিসভায় যোগ দেন দু’জনে। শোনা যায়, বিজেপির হয়ে ভোট প্রচার করবেন হিংসায় মৃত হর গোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল দাস ও মৃত চন্দন দাসের স্ত্রী পিংকি দাস।
হর গোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল দাস চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, প্রথম থেকেই বিজেপি আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের পাশে থেকে সব রকম সহযোগিতা করেছে। এখনো আমাদের পাশে আছে। তাই বিজেপির আমন্ত্রণে এসেছি।
প্রসঙ্গত, গত বছর এপ্রিলে ওয়াকফ আইন লাগু হবার পর তার বিরোধিতায় বিক্ষোভে শামিল হন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বাংলাতেও তার প্রভাব পড়েছিল। মুর্শিদাবাদ, মালদা ও সুন্দরবন এলাকায় অশান্তির ছবি ধরা পড়ে। তার মাঝে এপ্রিলে শামসেরগঞ্জের জাফরাবাদে ওয়াকফ হিংসার প্রতিবাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও প্রাণ গিয়েছিল স্থানীয় পরিবারের বাবা ও ছেলের। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়। খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। নিহত বাবা ও ছেলের স্ত্রী এখন পদ্ম শিবিরের হয়ে ভোট প্রচার শুরু করলেন।

