আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ৬ জানুয়ারি:
মুখ্যমন্ত্রী দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিকদের দুয়ারে পৌঁছেই সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প পৌঁছে দিচ্ছেন। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে দেখা গেল বাস্তবিক সেই চিত্র। কম্পিউটার, আঙ্গুলে ছাপ নেওয়ার যন্ত্র, ক্যামেরা সহ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে অসুস্থ যুবকের বাড়িতে পৌঁছে গেল স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সরকারি টিম। অসুস্থ ওই যুবক যাতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা পেতে পারে, সেই কারনে বারাসাত পৌরসভার পৌর প্রশাসক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে বারাসাত ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ রোড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মাধব পালের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিলেন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড।
দরিদ্র মাধব পালের স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সংসার। সংসারের আয় বলতে বিশেষ কিছু নেই। তাদের একমাত্র ছেলে রাজু পাল দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ। পাড়ায় সে একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল। অসুস্থতার কারণে রাজুর শারীরিক পরিস্থিতি দিনের-পর-দিন অবনতি হওয়ায় একান্ত নিরুপায় হয়ে রাজুর বাবা মাধব পাল ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে যান বারাসাত পৌরসভার প্রশাসক সুনীল মুখার্জির কাছে। ছেলের চিকিৎসার জন্য ভেলোর নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। মাধববাবুর পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ও ছেলের অসুস্থতার কথা জানতে পেরে তড়িঘড়ি চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগী হন বারাসাত পৌরসভার প্রশাসক সুনীল মুখার্জি। তড়িঘড়ি পৌরসভার স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করতে আসা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলেন সুনীলবাবু। তার নির্দেশে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তৈরির সমস্ত যন্ত্রপাতি নিয়ে বিবেকানন্দ রোড সংলগ্ন মাধব বাবুর বাড়িতে হাজির হয় স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তৈরি করার কর্মীরা।

প্রশাসক সুনীল মুখার্জি উপস্থিতিতে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড মাধববাবুর পরিবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসক সুনীল মুখার্জি ভেলোরে চিকিৎসা করতে যাওয়ার জন্য এয়ারলাইন্সের সাথে কথা বলে বিমানের চারটি টিকিটের ব্যবস্থা করেন।
সুনীলবাবুর এই মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাধববাবু ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে সুনীল মুখার্জি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সকলকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের আওতায় আনছি। কোনও দল দেখিনি। মানুষের জন্য আমরা এগিয়ে এসেছি। মানুষ যখন অসহায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আজ তারই এক ক্ষুদ্র প্রয়াস ।

