পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ এপ্রিল: দুয়ারে সরকার শিবিরে হাজির হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলছে সমস্যার সমাধান। শিবিরে আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘ই-স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড। কৃষকবন্ধু সহ অন্যান্য প্রকল্পেরও আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রত্যেক আবেদনকারীকে জেলা প্রশাসনের তরফে ফোন করে পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের এই তৎপরতায় খুশি জেলার বাসিন্দারা।
এদিন দুয়ারে সরকার শিবিরের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে জেলায় আসেন পরিবহণ বিভাগের সচিব সৌমিত্র মোহন। জেলাশাসককে সঙ্গে নিয়ে কেশপুর ও মেদিনীপুর সদরের কয়েকটি অঞ্চল তিনি ঘুরে দেখেন।

১ এপ্রিল থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দুয়ারে সরকার শিবিরে বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদন করা যাবে। এরপর ১১ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে পরিষেবা প্রদান করা হবে আবেদনকারীদের। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত অপেক্ষায় না থেকে পরিষেবা দিতে তৎপর হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনি এবং মঙ্গলবার জেলায় মোট দু’দিন দুয়ারে সরকার শিবির হয়েছে। দু’দিন মিলিয়ে জেলায় মোট শিবির হয়েছে ১৭৫০টি। এরমধ্যে স্থায়ী শিবির হয়েছে ১৩৭০টি, ভ্রাম্যমাণ শিবির হয়েছে ৩৮০টি। স্বাস্থ্য শিবির হয়েছে ১৮৭টি। মঙ্গলবার দুপুর দুটো পর্যন্ত শিবিরে মোট ৮১ হাজার ১৮১জন মানুষ হাজির হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে এরমধ্যে ৫২ হাজার ৮৮৬ জনই মহিলা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, শিবিরে মোট ২০ হাজার ২৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে। অনুমোদিত হয়েছে ১৪ হাজার ২৬৮টি। বাকিগুলো যাচাইয়ের কাজ চলছে। তারমধ্যে ৩২.৩৪ শতাংশ আবেদনের পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথীর জন্য প্রায় চার হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে সবাইকেই ‘ই-স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসক খুরশিদ আলি কদেরি বলেন, স্বাস্থ্যসাথীর প্লাস্টিক কার্ড তৈরি করে দিতে একটু সময় লাগে। কিন্তু তারজন্য পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয় তাই আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্যসাথী নম্বর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই নম্বর সমস্ত হাসপাতালেই গ্রাহ্য হবে। তাছাড়া কৃষক বন্ধুর আবেদনের ক্ষেত্রেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু খতিয়ে দেখে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসকের দাবি, বুথস্তরে শিবির হওয়ায় ভালো সাড়া পড়েছে। পুরুষদের থেকে মহিলাদের ভিড় দ্বিগুণ। মুখ্যমন্ত্রীর সাধের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রকল্পের টাকা পেয়ে মহিলারা তাঁদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারছেন। ওষুধ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছেন।

