অতিমাত্রায় ভারী যান চলাচল, আউশগ্রামে সংস্কারের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফাটল ধরল হিউমপাইপ কালভার্টে, ক্ষোভ গ্রামবাসীদের

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৯ জুলাই: অতিরিক্ত বালি, মোরাম বোঝাই ভারি যান চলাচল। আর তার জেরে সংস্কারের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফাটল ধরল হিউমপাইপ কালভার্টে। বসে পড়েছে একাংশ। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। নিম্নমানের কাজের অভিযোগে সরব হল তারা। এমনই নজিরবীহিন ঘটনাটি ঘটেছে আউশগ্রাম-২ নং ব্লকের বিলাসপুর গ্রামে। 

প্রসঙ্গত, আউশগ্রামের দেবশালা- সোঁয়াই গ্রাম পর্যন্ত জঙ্গলমহলের প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ছিল। বিলাসপুর, দেবশালা, পদুমা, লবনধারা সহ প্রায় ১৫ টি গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র এই রাস্তা। অবৈধ বালি, মাটি পাচারের গোপন রুট হিসাবে মাফিয়ারা এই রাস্তা ব্যাবহার করে। বছর চারেক আগে জঙ্গলের ভেতর লালমাটির রাস্তা পিচ করা হয়। রাস্তা তৈরী হলেও তার ওপর জরাজীর্ণ জঙ্গলমহল হিউমপাইপ কালভার্ট সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিনের পুরোনো মাটি ভরাট করা ওই কালভার্ট বিপদজ্জনক হয়ে পড়েছিল। চাঙড় যেমন ছেড়ে পড়েছিল। তেমনই কোনো রেলিং ছিল না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। ২০১৯ সালের জুন মাসে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখায়। গ্রামবাসীদের দাবি মতো সম্প্রতি ভাঙ্গাচোরা কালভার্ট সংস্কার শুরু হয়। বিশ্বব্যাঙ্কের অনুদানে রাজ্যের বিভিন্ন নদী, জলাধার, সেচখাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ওই প্রকল্পে বিলাসপুরে মাটির তৈরী হিউমপাইপ কালভার্ট সংস্কার শুরু হয়। বিশ্বব্যাঙ্কের ওই অনুদানে সমস্ত কাজটি নজরদারি করছে সেচ দফতর বর্ধমান জেলা প্রকল্প রূপায়ন বিভাগ। ওই বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গ্রামবাসীদের দাবি মেনে হিউমপাইপ
কালভার্ট সংস্কার করা হয়। ৫-৬ টনের যান চলাচলের যোগ্য ১০ ইঞ্চির কংক্রিট করা হয়।

দু’পাশে গার্ডওয়াল তৈরী হয়। আগামী ২২ জুলাই সেচের জল ছাড়া হবে। তার আগে গত রবিবার কালভার্টটি সাধারণের ব্যাবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কালভার্ট মাঝখানে বসে পড়ে। তার ওপর বড় ফাটল দেখা দেয়। আর তাতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে কিম্বা দিনের বেলায় যাওয়া আসার সময় ভেঙ্গে পড়লে প্রাণহানি ঘটবে। মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ  দেখায়। বিক্ষোভরত গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “কংক্রিটের হলেও কোনো রকম রড ব্যাবহার করেনি। কালভার্টের নীচে ভরাট কাজ মজবুত হয়নি। এককথায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন আঁকুড়ে জানান, “দীর্ঘদিনের দাবি মত কালভার্টটি তৈরী হলেও। কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে। যার ফলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফাটল ধরেছে। মাঝখানে বসে গেছে। যে কোনো সময় ভারি যান চলাচল করলে ভেঙ্গে পড়বে।”

জানা গেছে, অবৈধ বালি ও মোরাম পাচারের গ্রিন করিডর ওই রাস্তাটি। পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে জঙ্গলের ওই রাস্তা দিয়ে ৬-১০ চাকার ডাম্পারে বালি, মাটি ও মোরাম পাচার করে মাফিয়ারা। কালভার্ট চালু হতেই রতভর মোরাম, মাটি বোঝাই ডাম্পার আনাগোনা করছে। ওই সমস্ত ডাম্পার কমপক্ষে ৩০-৪০ টন ভারি। আর তার দরুন হিউমপাইপের ওই কালভার্টে ফাটল ধরেছে বলে দাবি জেলা প্রকল্প রূপায়ন বিভাগের। আর প্রশ্ন এখানেই, যেখানে ৫-৬ টনের ভারি যান চলাচলের জন্য তৈরী হিউমপাইপ কালভার্ট। সেখানে অতিমাত্রায় ভারি যান চলাচল কিভাবে করে? কালভার্ট তৈরীতে বেনিফিসিয়ারি কমিটি গঠন হয়। ওই কমিটির সদস্য স্বপন কোনার জানান,” ফাটল যেভাবে ধরেছে। তাতে আতঙ্ক রয়েছে। এই রাস্তার ওপর বালি, পাথরের ডাম্পার যাতায়াত করে। যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

সেচ দফতর বর্ধমান জেলা প্রকল্প রূপায়ন বিভাগের এক আধিকারিক জানান, “মাত্রাতিরিক্ত ভারি যান চলাচলের দরুন ভেঙ্গে পড়েছে হিউমপাইপ কালভার্টটি। ভারি যানচলাচল ঠেকাতে আপাতত হাইট বার লাগিয়ে দেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *