সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২১ সেপ্টেম্বর: বনগাঁর ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষ তাঁর ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন। দলের নির্দেশে মঙ্গলবার দলীয় নেতৃত্ব এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন তাঁরা। ফলে গত কয়েকদিন ধরে এই পঞ্চায়েতকে ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে আচমকাই বনগাঁ ব্লক উন্নয়ন দপ্তরে গিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আবেদনপত্র জমা দেন প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষ। এই ঘটনায় বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে যায়। এই বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব দফায় দফায় বৈঠক করলেও গত কয়েকদিনে কোনও সমাধান সূত্রই বেরিয়ে আসেনি। অবশেষে আজ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে দলের পক্ষে শংকর আঢ্য, ছয়ঘরিয়া অঞ্চলের তৃণমূল নেতা সন্তোষ দাস, প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষ সহ এই পঞ্চায়েতের ১৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে এই বৈঠক থেকেই সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে।
বৈঠক শেষে প্রসেনজিৎ ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, ‘মান–অভিমানের কারণে পঞ্চায়েতের কিছু সদস্য সম্ভবত আমার উপর সাময়িকভাবে আস্থা হারিয়েছিলেন। আমার বিরুদ্ধে তাঁরা অনাস্থা আনতে পারেন, এটা আঁচ করতে পেরেই আমি হঠাৎ করেই প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তারপরই সেই ইস্তফাপত্র জমা দিই। আজ দলের নির্দেশে সবার সঙ্গে আলোচনায় বসার পর সেই মান–অভিমান দূর হয়েছে।’
এদিনের বৈঠকের ব্যাপারে শংকর আঢ্য বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতই একমাত্র গ্রাম পঞ্চায়েত, যেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সমস্ত আসনে জয়লাভ করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থীরা। প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে গ্রামে ঢালাই রাস্তা, এলইডি আলো সহ এই পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে সাময়িকভাবে মান অভিমান তৈরি হয়েছিল। আজ বৈঠকের পরে সেই সব মান অভিমান দূর হয়ে সবাই একমত হয়েছেন যে, প্রসেনজিৎ ঘোষের নেতৃত্বেই ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত আগের মতো পরিচালিত হবে।’

