আমাদের ভারত, হুগলী, ১২ ফেব্রুয়ারি: কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া চন্দননগর পুরনিগমের ভোট মিটল শান্তিপূর্ণ ভাবেই। শনিবার সকাল থেকেই চন্দননগরের বিভিন্ন ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে মানুষের ভোট দেওয়ার লাইন ছিল চোখে পড়ার মত। এদিন চন্দননগরের ১৫ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুগীপুকুর এলাকায় মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট দিয়েছেন। এখানে ভোট দিতে আসা ষাটঊর্দ্ধ মহিলা মনিকা দেবী বলেন, আমি আমার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলাম।
৩১ নম্বর ওয়ার্ডের খলিসানি অবিনাশচন্দ্র বিদ্যাপীঠে গিয়েও দেখা গেছে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। এই ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা এক ব্যাক্তি অনিন্দ দাস বলেন, চন্দননগর পুরনিগমের বোর্ড ভেঙে গিয়েছিল এটা সত্যি। সেটা প্রশাসনিক ব্যাপার। কিন্তু, আমরা পুরপরিসেবা থেকে বঞ্চিত হইনি। এটাও সত্যি।

যদিও এদিন সকাল থেকেই ২৫, ২৬, ২৭, ১২, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্ত ভাবে গণ্ডগোল শুরু হয়। কোথাও বুথ জ্যামের অভিযোগ তো কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। কোথাও আবার ভোটার তালিকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গোটা ঘটনাগুলোই পুলিশের সামনে হয়েছে বলে অভিযোগ। গোলমালের সময় পুলিশি নিষ্কৃীয়তার অভিযোগে একাধিক ওয়ার্ডে বিরোধীরা সোচ্চার হয়েছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চন্দননগরের একাধিক ওয়ার্ডে বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা কমতে শুরু করেন। সেখানে সভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই শাসক দলের নেতা কর্মীরা বুথের দখল নিয়ে নেয়। অন্তত এমনটাই অভিযোগ করেন বিজেপি ও বাম দলের নেতা কর্মীদের একাংশ।
এদিন ১২ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির মহিলা প্রার্থী কিরণ অধিকারী ও দীপা চৌধুরীকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, কোনও গণ্ডগোলের সময় পুলিশ তাদের ফোন ধরেননি। এমনকি তাদের দিকে সাহায্যে র হাত বাড়িয়েও দেননি। এই ঘটনায় অবাধে ভোট লুট হয়েছে। এরপরই চন্দননগর এসডিও অফিস ঘেরাও করে বিজেপি কর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভের জেরে একাধিক অবজারভারদের গাড়ি আটকে যায়। যদিও কিছুক্ষণ পরে তাদের গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তুষার মজুমদার বলেন, আমরা এসডিও অফিসে ধর্নায় বসতে বাধ্য হয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম গণতান্ত্রিক ভাবে ভোট হবে। কিন্তু বেলা বাড়তেই চারদিকে ছাপ্পা ভোট শুরু হয়েছে। আমাদের প্রার্থীদের মারধর করা হয়েছে। পুলিশ কোনও সাহায্য করেনি। চন্দননগরে তৃণমূল ভোটকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
এই প্রসঙ্গে চন্দননগর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মুন্না আগরবাল বলেন, দিনের শেষে ভোট খুব ভালো হয়েছে। আমরা ত্রিশটা ওয়ার্ডে প্রথম স্থানে ছিলাম। সেখানেই থাকব। বাকি তিনটে ওয়ার্ডে তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধীদের লড়াই হবে।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেরটের এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, চন্দননগরে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

