কর্মতীর্থ না ভুতুড়ে বাংলো! জানালা-দরজা ভাঙ্গা, বালুরঘাটে জঙ্গলে ঢেকে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার প্রকল্প, আতঙ্ক মেয়ে বউদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৫ জানুয়ারি: কর্মতীর্থ, না ভুতুড়ে বাংলো? তা যেন বলাই মুশকিল। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরী হওয়া কর্মতীর্থ পড়ে রয়েছে এক জরাজীর্ণ অবস্থায়। ভেঙ্গে গিয়েছে জানালা, দরজা। আবর্জনা ও জঞ্জালের স্তুপে তালাবন্দি অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে সরকারি সেই প্রকল্পটি। সন্ধ্যা নামতেই যেখানে বাড়ছে সমাজ বিরোধীদের আনাগোনাও। আর যার জেরেই এলাকা দিয়ে কার্যত যাতায়াত করতেও ভয় পাচ্ছেন এলাকার মেয়ে বউরা। বালুরঘাট শহর লাগোয়া চকবাখোর এলাকায় গ্রামীণ রোজগার বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরী করা সেই কর্মতীর্থের মুখ আজ পুরোটাই ঢেকে রয়েছে জঙ্গলে। দ্রুত ওই কর্মতীর্থ চালুর বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও ওই কর্মতীর্থর ভোগৌলিক অবস্থান নিয়ে বিগত প্রশাসকদেরই কিছুটা দুষেছেন জেলাশাসক।

গ্রামীণ রোজগার বৃদ্ধি ও বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে সরকারি উদ্যোগে বালুরঘাট ব্লকের চকবাখরে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল কর্মতীর্থ। যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যারপরে কিছু দিন দোকানপাঠও দিয়েছিল মানুষজন। অভিযোগ, উপযুক্ত পরিবেশে কর্মতীর্থ তৈরী না হওয়ায় ধীরে ধীরে ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ে এলাকা। ফ্রিতে চা বিস্কুট দিয়েও একপ্রকার ক্রেতা পাননি দোকানদাররা। একই সাথে করোনার প্রকোপ, মূল্যবৃদ্ধি-সহ হাজারো সমস্যা তৈরি হয়েছিল তৎকালীন সময়ে। কিছুটা আশা নিয়ে বুক বেঁধে ব্যবসা শুরু করলেও হতাশ হতে হয়েছে বাসিন্দাদের। যার ঋণের দায়ে এখন জর্জরিত রয়েছেন এলাকার অনেকেই। আর তারপরেই যেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় কর্মতীর্থটি। যা বর্তমানে জঙ্গলে ঢেকে রয়েছে। ভেঙ্গে গিয়েছে অধিকাংশ জানালা, দরজাও। দিনের আলোতে একরকম থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায় এলাকা। ভুতুড়ে বাংলোর চেহারা নেয় আস্ত কর্মতীর্থটি। যার সুযোগ নিয়েই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সমাজবিরোধীরা। আর এতে করেই কিছুটা আতঙ্কে ভুগছেন এলাকার বউ মেয়েরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে চালু হোক সরকারি এই প্রকল্পটি এবং কর্মসংস্থান তৈরি হোক এলাকার বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জু দাস বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমন তালাবন্ধ অবস্থাতেই দেখছেন কর্মতীর্থটি। বর্তমানে জঙ্গল ও আবর্জনায় ঢেকে রয়েছে। তারা চান প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত চালু করুক সরকারি এই প্রকল্পটি।

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক বিজীন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, বালুরঘাটের কর্মতীর্থটির ভৌগোলিক অবস্থানগত কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন যত তাড়াতাড়ি সেটি চালু করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *