আমাদের ভারত, মুর্শিদাবাদ, ১০ এপ্রিল: ভোট কি আদৌ শান্তিপূর্ণ হবে না, কোচবিহারের শীতলকুচিতে গুলিবিদ্ধ কান্ড নিয়ে এমনই প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।
শনিবার বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী বলেন, বাংলায় এবারে নির্বাচনে দুটো দানব শক্তি নিজেদের মধ্যে যে সংঘাতের রাজনীতি করছে তারই পরিণাম সারা বাংলাজুড়ে নির্বাচনে পড়েছে। এই বাতাবরণে প্রতিদিন খুন, মারামারি, আগুন, হিংসা চলছে আর চলছে দোষারোপ, গালিগালাজ এবং খিস্তি খেউর নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। বাংলার বেকার যুবক যুবতীদের রোজগারের ব্যবস্থা নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। আট দফা নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও এই বাংলাতে নির্বাচন শান্তিতে হচ্ছে না, সারা ভারতবর্ষের কাছে বাংলার ভাব মূর্তি কলুশিত হচ্ছে। কেন এই ঘটনা ঘটল তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো মানে এটা নয় যে গুলি চালাতে হবে, রাজ্য পুলিশ তারাও যেন সরকারি দলের কথাতে প্রভাবিত না হয় সেটাও দেখা দরকার। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এক অদ্ভূত রাজনীতি চলছে, রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় পুলিশের মধ্যে সংঘাত লাগানো জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্ররোচনা ও উস্কানি দিচ্ছে এটা বড় ভয়ঙ্কর। বিজেপির নেতারা বলছেন এ জেলে যাবে, সে মরবে এ এক অদ্ভুত ব্যাপার। এই যে সংঘাতের রাজনীতি, খুনোখুনির রাজনীতি এই রাজনীতি নির্বাচনের মুখে বাংলার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে। ভোট কি আদৌ শান্তিপূর্ণ হবে না। গুলি চলছে, মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এটাকে কি আমরা শান্তিপূর্ণ বলতে পারি। নির্বাচনের আজকের চতুর্থ দফা, বাকি আরও চার দফার দিকে দাঁড়িয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার উভয় সরকারের যে প্রশাসন তাদের হাতে নির্বাচনের দায় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হোক। নির্বাচনের বাংলায় আগামী দিনে আরও রক্তাক্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে আমরা ঘটনার জন্য অত্যন্ত আশঙ্কা প্রকাশ করছি এই ধরনের ঘটনা আমাদের কাছে নিন্দনীয়। এই ধরনের ভোট প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে বলে মনে করি। কার দোষ কার গুণ সেটা পরের বিষয় কিন্তু বাংলার নির্বাচনে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক বলে আমরা মনে করি বলে মন্তব্য করেন অধীর চৌধুরী।

