তৃতীয় ঢেউ কি সত্যি প্রভাব ফেলবে শিশুদের ওপর, কীভাবে হবে মোকাবিলা, কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আমাদের ভারত, ২ জুন : দেশ জুড়ে কোভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর এবার উদ্বেগ শুরু হয়েছে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বেশ কিছু দেশে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও চতুর্থ ঢেউ আসছে বলেও দাবি বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করেছেন, তৃতীয় ঢেউয়ে গুরুতর প্রভাব পড়বে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে। যদিও তার প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছেন আর এক অংশের বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলায় কেবল মে মাসে ৮ হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরের সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসায়, ভারতেও তৃতীয় ঢেউ এসে গিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন তথা সেরাজ্যের স্বাস্থ্য মহল।

১৮ বছরের ঊর্ধ্বে টিকা করণ শুরু হয়েছে। এর নিচের বয়সীদের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিষেধকের ব্যবস্থা নেই। সেই কারণেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনসাধারনের মধ্যে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলে শিশু ও কিশোরদের আক্রান্তের হার মোট সংক্রমনের ৮.৩৮ শতাংশ ছিল। তবে এইমস প্রধান ডঃ গুলেরিয়া সাম্প্রতিক একটি বিবৃতিতে বলেছেন, কোভিডের নতুন ভেরিয়েন্ট বাচ্চাদের মধ্যে গুরুতর সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তার কোনও প্রমান এখনও পাওয়া যায়নি। তাই তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের মধ্যেই অত্যাধিক সংক্রমনের হার দেখা যাবে সেটা এতো আগে থেকে বলা যাবে না। তার মতে শিশুরারা সংক্রমিত হতে পারে তবে তা গুরুতর স্তরে নাও পৌঁছাতে পারে।

এদিকে ৩১ মে, ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স- এর তরফে জানানো হয়েছে, তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের গুরুতর ভাবে প্রভাবিত হওায়ার সম্ভাবনা নেই। কোনও গবেষণা বা তথ্য প্রমানে এই ধরনের মন্তব্য উঠে আসেনি। যে শিশুরা সংক্রমিত হচ্ছে তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশিই হল মাইল্ড সংক্রমিত অথবা উপসর্গহীন। খুব কম সংখ্যক শিশুর ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে। তাই অনুমানের ভিত্তিতে এই নিয়ে আতঙ্কের কোনও যুক্তি নেই বলে দাবি সংস্থার।

কিন্তু প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ে চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং ভাইরাসের দ্রুত মিউটেন্টের কথা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিৎ। তৃতীয় ঢেউয়ের গুরুতর প্রভাব শিশু ও কিশোরদের মধ্যে পড়বে, এই দাবি ভিত্তিহীন হলেও সব দিক থেকে সতর্ক থাকার প্রয়োজন সকলের।

প্রসঙ্গত, মিনিস্ট্রি অফ হেল্থ এন্ড ওয়েলফেয়ার এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল মেডিক্যল রিসার্চ- কে শিশু ও কিশোরদের ওপর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাব নিয়ে আগে ভাগে প্রস্তুত হওয়া এবং পদক্ষেপ করার কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড।

এছাড়াও ২ থেকে ১৮ বছর বয়স্কদের জন্য ‘কোভ্যাক্সিন’ নিয়ে দুটি ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারত বায়োটেককে।

এদিকে সংক্রমণের কারনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঘরবন্দী হওয়ার ফলে যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে তা শিশু-কিশোরদের মানসিক দিককেও প্রভাবিত করছে। দেশ জুড়ে কোভিডের প্রথম দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের পরিযায়ী শ্রমিক এবং দরিদ্র সীমার নীচে থাকা মানুষের অর্থনৈতিক সঙ্কটের যে পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তার ফলে অভাব, অপুষ্টি সহ বিভিন্ন সমস্যাগুলির প্রভাব শিশু কিশোরদের উপর পড়তে বাধ্য। তাই এই পরিস্থিতিকে বিবেচনার মধ্যে রেখেই তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে আশা সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *