পাঞ্জাবের মুখ্য উপদেষ্টা পদে ইস্তফা পিকে-র, বাড়লো সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণের জল্পনা

আমাদের ভারত, ৫ আগস্ট: বৃহস্পতিবার চিঠি লিখে ভোট কুশলী পিকে পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের কথা জানান। আর প্রশান্ত কিশোরের ইস্তফা দেওয়ার খবর সামনে আসার পর থেকেই নানা জল্পনা উঁকি দিচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে। তাহলে কি এবার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন প্রশান্ত?

চিঠিতে পিকে স্পষ্টই জানিয়েছেন, যেহেতু তিনি পাবলিক লাইফে সক্রিয় ভূমিকা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন তাই এই দায়িত্বপূর্ণ পদে তিনি থাকতে পারছেন না। তাই তাকে অব্যহতি দেওয়া হোক।
যদিও তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানানি

একুশে নির্বাচনে বাংলায় প্রশান্ত কিশোরের কাজ দেখে গত মার্চেই ক্যাপ্টেন অমরিন্দর তাঁকে মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করেছিলেন। ২০২২ এ পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোট, তাই নিজের খুঁটি শক্ত করতেই ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্তে পিকে-কে তিনি নিযুক্ত করেছিলেন বলে মত দলের একাংশের।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে দলের অনেকেরই আপত্তি ছিল। কারন তারা, বাংলায় নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির জয়ের পেছনে পিকের অবদান দেখলেও তাঁরা পিকের কাজের ধরণ নিয়ে সন্তুষ্ট নন।

এছাড়াও পিকের সক্রিয় রাজনীতির কেরিয়ারে ব্যর্থতার দাগ লেগে আছে। ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে যেখানে কংগ্রেসের হয়ে তিনি কাজ করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাও মধুর ছিল না তাঁর। তাই দলের অভ্যন্তরে পিকেকে নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকট হতে শুরু করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দে অন্যতম ছিল নভজ্যোত সিং সিধু। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। তিনিও পিকেকে নিযুক্ত করার বিরোধী ছিলেন বলেই খবর। যদিও ক্যাপ্টেন এবং সিধুর এই দ্বন্দকে প্রশমিত করতে সিধুকে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে বসানোর পেছনে পিকের অবদান আছে বলে মনে করা হয়। তার পরও পিকের নিয়োগ নিয়ে দলে অসন্তোষ বেড়েই চলেছিল বলে শোনা যাচ্ছিল।
পাশাপাশি পাঞ্জাব রাজনীতিতে ক্যাপ্টেনের গুরুত্বও ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই এই ইস্তফায় সিধু একটা ফ্যাক্টর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তবে ভোট কুশলী প্রশান্তের এই সিদ্ধান্তে জল্পনার বিস্তর জাল ছড়িয়েছে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে। প্রশান্ত কিশোরকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্বয়ং রাহুল গাঁন্ধী। এই নিয়ে উচ্চস্তরের নেতা নেত্রীদের নিয়ে গত মাসেই বৈঠক করেছেন রাহুল বলে খবর। ফলে একদিকে যেমন পিকে কংগ্রেসের হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তেমনই অন্যদিকে শরদ পাওয়ার সহ আরও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠককেও নজরে রেখে ২৪-র লোকসভা নির্বাচনে শুধুমাত্র বিরোধী জোটের হয়েই কাজ করবে পিকে বলেও অনুমান একাংশের।

এছাড়া পিকের আইপ্যাক ইতিমধ্যেই তৃণমূলের হয়ে ত্রিপুরায় কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে পিকের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কিছু নির্ধারণ করা যাচ্ছে না ঠিকই তবে ২৪-র নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে পিকের সিদ্ধান্ত কি হবে সেদিকেই নজর থাকবে সমস্ত রাজনৈতিক দলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *