মণিপুরে কেন রাষ্ট্রপতি শাসন নয়? বিরোধীদের জবাব দিলেন অমিত শাহ

আমাদের ভারত, ১০ আগস্ট:
দীর্ঘ চার মাস হয়ে গেলেও মণিপুর এখনো অশান্ত। উত্তর -পূর্বের রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবও এনেছে বিরোধীরা। তারা দাবি করেছেন, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেওয়া উচিত। কিন্তু কেন্দ্র এই ক্ষেত্রে কোনওরকম কর্ণপাত করেনি। মণিপুর সরকার ভেঙে দেওয়া বা মুখ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি।

মে মাস থেকে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর। কুকি ও মৈতেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে ঘোরানো ও গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা দাবি করেছেন, মণিপুরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। মণিপুরের রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা উচিত। জুন মাসে যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল বিরোধীদলগুলি, সেই সময়ও তারা মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছিল। এরপর সংসদেও মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের ইস্তফা দাবি করেন বিরোধী দলের নেতারা। কংগ্রেসের গৌরব গগৈ থেকে শুরু করে এনসিপি’র সুপ্রিয়া শুলে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায় সকলেই মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন ও মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দাবী করেছেন।

বিরোধীদের এই দাবির জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসন তখনই জারি করা হয় যখন সরকার সহযোগিতা করে না। কিন্তু মণিপুর সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। মুখ্যমন্ত্রী সহযোগিতা করছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যে পাল্টা জবাব দেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ। সংসদের বাইরে তিনি বলেন, “মণিপুরে ৬০ হাজার মানুষ ত্রিণশিবিরে। এরপরেও বলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী সহযোগিতা করছেন। এই ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রীর উচিত নৈতিকতার খাতিরে মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করা। এটা কী ধরনের সহযোগিতা মুখ্যমন্ত্রীর? যেখানে থানা থেকে অস্ত্র লুট করা হচ্ছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ভুল স্বীকার করার সাহস পর্যন্ত নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *