এই হিন্দু প্রার্থীর কারনেই সেখানে শাসকদলের পরাজয় ঘটেছে বলে মনে করছেন ত্বহা সিদ্দিকি। তাঁর কথায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের আরো সতর্ক হওয়া উচিত। না হলে গোটা বাংলায় সাগরদিঘির মতো ফলাফলের প্রতিফলন হবে।
আমাদের ভারত, ৪ মার্চ: একদিকে
সাগরদিঘির উপনির্বাচনের তৃণমূলের হার ও অন্যদিকে আইএসএফ বিধায়ক পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকিকে জেলবন্দি করে রাখার প্রভাব যে ফুরফুরা শরীফে পড়েছে সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল ত্বহা সিদ্দিকির সাবধানবানীর পর। শনিবার নওশাদের জেল মুক্তির আবহে তৃণমূলের উদ্দেশে কার্যত সতর্কবার্তা দিলেন ফুরফুরার পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি। আর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর এই বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাগর দিঘিতে চমকে দিয়ে উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূলের দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই হিন্দু প্রার্থীর কারনেই সেখানে শাসকদলের পরাজয় ঘটেছে বলে মনে করছেন ত্বহা সিদ্দিকি। তাঁর কথায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের আরো সতর্ক হওয়া উচিত। না হলে গোটা বাংলায় সাগরদিঘির মতো ফলাফলের প্রতিফলন হবে। তাঁর প্রশ্ন কেন ৬৫ শতাংশ সংখ্যালঘু এলাকায় কোনও সংখ্যালঘু প্রার্থী নেই? তাঁর বক্তব্য, হিন্দু এলাকায় হিন্দু প্রার্থী হলে মুসলিম এলাকায় কোনও মুসলিম প্রার্থী করা উচিত।
সাগরদিঘিতে প্রার্থী নির্বাচন কে করেছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ত্বহা সিদ্দিকি। তাঁর বক্তব্য প্রার্থী কে ঠিক করেছেন? মমতা নাকি অভিষেক? আমি নিশ্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরদিঘিতে প্রার্থী নির্বাচন করলে তিনি নিশ্চয়ই সংখ্যালঘু ফ্যাক্টরের কথা মনে রাখতেন। তৃণমূল নেত্রীর প্রতি তাঁর বার্তা দলের রাশ নিজের হাতে রাখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আলগা করবেন না।
টানা ৪২ দিন পর জেল থেকে মুক্ত হয়ে ফুরফুরায় ফিরেছেন নওশাদ সিদ্দিকি, সেখানে উৎসবের মেজাজ। এদিকে এইদিনই কেষ্টর দিল্লি যাওয়া নিশ্চিত হলো। তার মধ্যে ত্বহা সিদ্দিকির সতর্ক বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

