অশোক স্তম্ভের উদ্বোধনে কেন পুজো পাঠ করলেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিবাদ সিপিএম এবং আসাদুদ্দিন ওয়াইসি’র

আমাদের ভারত, ১২ জুলাই:
নির্মীয়মান নতুন সংসদ ভবনের মাথায় সোমবার জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ব্রোঞ্চের তৈরি এই অশোকস্তম্ভ বসানো ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সিপিএম সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল এই পুজো পাঠ করার বিরোধিতা করেছে। সিপিএমের বক্তব্য এটি দেশের সকলের জাতীয় প্রতীক, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আস্থা প্রকাশের জায়গা নয়। এই তীব্র বিরোধিতা করেছে মিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

সিপিআইএম পলিটব্যুরো ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। সিপিএমের পলিটব্যুরোর অভিযোগ, সংবিধানে গণতন্ত্রের তিনটি শাখা স্পষ্ট ভাগ রয়েছে। প্রশাসন বা সরকার, আইনসভা অর্থাৎ রাজ্য বিধানসভা- সংসদ এবং বিচার বিভাগ। সংবিধান বর্ণিত এই তিন শাখার বিধিতে অন্তর্ঘাত সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সংবিধানে প্রত্যেক ধর্মকে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম পালন এবং বিশ্বাস বজায় রাখতে অধিকার দেওয়া হয়েছে। তাহলে কেন পূজা পাঠ করে অশোকস্তম্ভ উন্মোচন করা হয়েছে? রাষ্ট্র ও সংসদ কি দেশের অন্য ধর্মের মানুষের জন্য নয়? কঠোরভাবে রাষ্ট্রের অনুষ্ঠান থেকে ধর্মকে পৃথক রাখা উচিত।

দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি টুইটারে লিখেছেন, পুজো পাঠ করে প্রধানমন্ত্রী অশোকস্তম্ভ উন্মোচন করলেন। আমাদের সংবিধান সমস্ত ভারতীয়কে তাদের বিশ্বাসের অনুশীলন এবং দাবি করার অধিকার ও সুরক্ষা দেয়। এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার। একই সময়ে সংবিধানের স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে রাষ্ট্র কোনো ধর্ম বিশ্বাস বা পালন করে না।

মিম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সিপিএমের মতো অভিযোগ করেছেন। তার কথায়, সংবিধান লংঘন করে প্রধানমন্ত্রী এই কাজ করেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস অবশ্য সরাসরি পুজোর বিরোধিতা করেনি। তাদের অভিযোগ, এই এত বড় অনুষ্ঠানে কেন অন্যান্য দলগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *