রাজেন রায়, কলকাতা, ২৮ অক্টোবর: পেট্রোল ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কথা সকলেরই জানা। কিন্তু তারপরও ভাড়া বাড়িয়েও খরচ সামাল দিতে না পেরে রাস্তায় বাস চালাচ্ছেন না অনেকেই। কিন্তু রাজ্য সরকারকে কিছু না জানিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে কেন এই সিদ্ধান্ত নিল বাস মালিক সংগঠনগুলি? সেই বিষয়ে জানতে চেয়ে বাস মালিক সংগঠনগুলিকে চিঠি দিল রাজ্য সরকার।
কোন রুটে কত বাস চালানো হচ্ছে তার তালিকাও চাওয়া হয়েছে বাস মালিকদের কাছ থেকে। বেসরকারি বাসের ক্ষেত্রে এই তালিকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। তবে রাজ্য সরকার এই অতিমারিকালে কোনও ভাবেই সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়াতে প্রস্তুত নয়। এখনই ভাড়া বাড়ানোয় সায় নেই তাদের। বাসের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে রাজ্য সরকার বার বারই বলেছে, কোনও ভাবেই অতিমারি আবহে সাধারণ মানুষের উপর আর অর্থনৈতিক বোঝা চাপানো যাবে না।
পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আগেই জানিয়েছিলেন, “অতিমারি চলছে। মানুষের হাতে এমনিই টাকা পয়সা নেই। এই অবস্থায় কোনও ভাবেই ভাড়া বাড়ানো সম্ভব নয়। বাস মালিকদের সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে। আমরা জানি পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাস মালিকরা সমস্যায় পড়েছেন। আমরা তাঁদের সমস্যার কথা বুঝতে পারছি। কিন্তু বর্তমান সময়ের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের উপরে বাড়তি আর্থিক চাপ দেওয়া যাবে না।”
এদিকে প্রথম থেকেই বাস মালিকদের দাবি, রাজ্য সরকারের উচিৎ ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা। এরই মধ্যে বাস মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, বিভিন্ন রুটে ইচ্ছা মতো ভাড়া হাঁকছেন কনডাক্টর। না দিলে মুখের উপর যাত্রীকে বলছেন, বাস থেকে নেমে যেতে। বাড়তি বাস ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে একাধিক বাস মালিককে শোকজও করা হয় পরিবহণ ভবনের তরফে। এমনকী নির্ধারিত ভাড়ার থেকে বেশি নিলে পারমিট বাতিল হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। যদিও সে সময় বাস মালিকরা বলেছিলেন, এ ভাবে চলতে থাকলে তাঁদের পক্ষে বাস চালানোই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। আর পক্ষান্তরে হয়তো সেটাই বাস্তবায়ন হচ্ছে, এমনটাই দাবি সাধারণ যাত্রীদের।

