ভোট এলেই পায়ে কেন চোট পান মু্খ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২৭ জুন: ভোট এলেই কেন বার বার পায়ে আঘাত পান মুখ্যমন্ত্রী? বার বার পায়ে আঘাত মানে শুভ লক্ষণ নয়। এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দ্যেশ্যে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ২১ এর নির্বাচনেও পায়ে চোট নিয়ে হুইলচেয়ারে চেপে প্রচার করে বেড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার পঞ্চায়েত ভোটের আগে চোট লাগলো তার। এটার পেছনে সহানুভূতি পাওয়ার অভিসন্ধি রয়েছে বলেই ইঙ্গিত করেছেন বিরোধীরা। সুকান্তর মতো একই কথা বলেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন,
“জানেন সব থেকে বড় চোট কোথায়। তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তাতে মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চ রক্তচাপ বাড়ার কথা ছিল।” তবে মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতাও কামনা করেছেন সুকান্ত।

অন্যদিকে সুকান্তর মতো একই কথা বলেছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, ” মাটিতে পা রেখে চলতে শিখুন। নির্বাচনের আগে দুর্ঘটনা কেন হয়?”

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামে আহত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে নির্বাচনী প্রচারে কোনো ব্যঘাত পড়েনি। বরং হুইল চেয়ারে বসে জেলায় জেলায় প্রচার করেছিলেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, “পা সেরে যাবে। ভোটের পর বাংলায় কারা পা রাখবে দেখব।” অন্যদিকে বাঁকুড়ার সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “তৃণমূল বলছে চক্রান্ত করে হামলা, কে জানে সত্যিটা কি?”

ঠিক একই ভাবে, পঞ্চায়েত ভোটের মুখে ফের মুখ্যমন্ত্রী পায়ে ও কোমরে আঘাত পেয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করলেও কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি বিজেপি সহ বিরোধীরা।

প্রসঙ্গত, অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার। মাঝ আকাশে প্রবল ঝড় বৃষ্টির মুখে পড়ে সেবক এয়ারবেসে জরুরি অবতরণ করে পাইলট। আর কপ্টর থেকে নামতে গিয়ে কোমর ও উপায় চোট পান মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার সেরে জলপাইগুড়ির ক্রান্তি থেকে বাগডোগরা উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুটি জায়গার সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। যা কপ্টারে ১৫ মিনিটের কম লাগে। কিন্তু ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গজলডোবার কাছে পৌঁছে আকাশ কালো করে প্রবল ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়া খারাপ হবার ফলেই গতিপথ ঝাপসা হয়ে যায়। নীচে বৈকুন্ঠপুরের ঘন জঙ্গল থাকায় নামানোর কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে পাইলট হেলিকপ্টার ঘুরিয়ে সেবক এয়ার বেসে জরুরি অবতরণ করানন।

জরুরি অবতরণের কারণে কোনো সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল না। আর তখনই কাপ্টার থেকে নামতে গিয়ে কোমরে ও পায়ে মুখ্যমন্ত্রী ব্যাথা পান বলে খবর। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন রাজ্যপাল। পরে সেবক থেকে সড়কপথে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে কলকাতায় আসেন। এরপর মু্খ্যমন্ত্রী এসএসকেএমে চলে আসেন। জানাগেছে, তাঁর হাঁটতে অসুবিধা হচ্ছে। এমআরআই হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *