দিল্লিতে কোভিড বেডের অভাবে মৃত্যু মিছিল! কেন গত ৫ বছরে একটাও নতুন হাসপাতাল হয়নি, প্রশ্নের মুখে কেজরিওয়াল সরকার

আমাদের ভারত, ১২ মে:রাজধানীতে করোনা রোগীর মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত। কেন্দ্র সরকারের তথ্য বলছে গত সপ্তাহে দিল্লিতে প্রতি ঘন্টায় ১২ জনেরও বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী এমন কোনো শ্মশান নেই যেখানে এক মুহুর্তের জন্যও আগুন নিভছে না, কবরস্থানেও মৃতদেহের জায়গা মিলছে না। হাসপাতালে নেই অক্সিজেন, করোনার বেড। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে হাহাকার শোনা যাচ্ছে রাজধানী জুড়ে। রাজধানীর স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল চেহারা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কিন্তু কেন এই বিপর্যয় তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকেই মনে করছেন এর জন্য কেজরিওয়াল সরকার যথেষ্ট দায়ী।

এক সংবাদসংস্থার তথ্য বলছে দিল্লিতে হাসপাতালগুলিতে কোভিড বেডের অভাব এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। ২০১৫-২০১৯ পর্যন্ত সেখানে কোনো নতুন হাসপাতালেই তৈরি হয়নি। যেকটা নির্মীয়মান হাসপাতালের কাজ শেষ হয়েছে সেখানে উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসের বার্ষিক সমীক্ষা সূত্র ধরে জানা যাচ্ছে, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দিল্লিতে একটিও নতুন হাসপাতাল তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি কেজরিওয়াল সরকার। যে ১৬টি নতুন হাসপাতাল তৈরীর কাজ চলছিল সেখানে চিকিৎসার উপযুক্ত পরিকাঠামোর নেই।

যে নির্মীয়মান হাসপাতালগুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলি যদি তৈরি হয়ে যেত তাহলে সেখানে ৩০৩৩টি বেডের ব্যবস্থা হতো। কিন্তু সেগুলি কোনটি চালু হয়নি। এই হাসপাতালগুলি সঠিক সময়ে চালু হলে দিল্লিতে কোভিড রোগীদের ভর্তির কোন সমস্যা হতো না। আরটিআই সূত্র জানাচ্ছে দ্বারকার ইন্দিরা গান্ধী হাসপাতালটি ২০১৭ সালে চালু হওয়ার কথা ছিল। এই হাসপাতালের ৭০০ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় পরিষেবা চালু হয়নি।

দাবি করা হচ্ছে করোনা মোকাবিলায় কেজরিওয়াল সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। কমিউনিটি হল,স্টেডিয়াম, হাসপাতাল গুলোতে কোভিড চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কোভিড কেয়ার সেন্টার গুলিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে এই মুহূর্তে উন্নত করার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু তার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই উদ্যোগ আগে নিলো না সরকার? এই পদক্ষেপ যদি আগে নিতো তাহলে হয়তো দিল্লিবাসীকে এই বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়াতে হতো না। স্বজন হারানোর হাহাকার হয়তো এতো দীর্ঘ হতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *