আমাদের ভারত, ৩ এপ্রিল: আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সহকারি দলনেতার পদ থেকে সরানো হয়েছে রাঘব চড্ডাকে। আর তারপরেই দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাঘব। সমাজ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, কেন আমাকে নিরব করার চেষ্টা হচ্ছে? আমি সব সময় জনগণের সমস্যা তুলে ধরেছি? আমি কি কিছু ভুল করেছি? একইসঙ্গে দলের নেতৃত্বকে রাঘবের হুঁশিয়ারি এভাবে চুপ করিয়ে তাকে পরাস্ত করা যাবে না।
কেজরিওয়ালের দল বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সচিবালয়কে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছে রাঘবের বদলে ডেপুটি লিডার করা হবে পঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত শিক্ষাবিদ অশোক মিত্তলকে। কেবল তাই নয়, চিঠিতে কেজরিওয়ালের দল আরো জানিয়েছে, আপের বরাদ্দ সময় থেকে বলার জন্য সুযোগ দেওয়া হবে না রাঘবকে।
এরপরই জল্পনা দানা বাঁধে যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। রাঘব সেই জল্পনা উস্কে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আম আদমি পার্টি রাজ্যসভাকে বলেছে যে, রাঘব চড্ডাকে কথা বলতে দেবে না। কিন্তু কেন? আমি সব সময় সাধারণ মানুষের জন্য কথা বলেছি, আমি এমন বিষয়গুলো তুলে ধরেছি যেমন বিমানবন্দরের খাবারের মূল্য বেশি, টেলিকম কোম্পানিগুলি অতিরিক্ত চার্জ করছে, টোল প্লাজা ও ব্যাঙ্ক লুট, গিগ কর্মীদের সমস্যা, ইত্যাদি এইসব বিষয়গুলি তুলে ধরার পর সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে, কিন্তু আপের কি কোনো ক্ষতি হয়েছে?
গত দু’বছর ধরে আপের কর্মসূচিতে নিয়ম করে গড় হাজির থাকতেন রাঘব। গত বছর দিল্লি বিধানসভার ভোটের প্রচারে তাকে দেখা যায়নি। এমনকি আবগারি দুর্নীতি মামলায় আপ প্রধান কেজরিওয়াল মুক্তি পাওয়ার পরেও তার সঙ্গে রাঘব দেখা করেননি। দলীয় কর্মসূচিতে শামিল না হলেও রাজ্যসভার অধিবেশনে এবং সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় সরব হতে দেখা গেছে রাঘবকে। যদিও আপের রাজ্যসভার নেতা সঞ্জয় সিং- এর সঙ্গে তার সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। অনেকেই সেটা নজর করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গিগ কর্মীদের অধিকার নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, টেলিকম সংস্থাগুলির রিচার্জ কেলেঙ্কারি নিয়ে সরব হয়েছেন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঠিক যে যে ইস্যুতে গত কয়েক মাসে রাঘব সরব হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারও সেইসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি।

