আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৭ সেপ্টেম্বর: জলপাইগুড়িতে দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় এখনও অধরা। পুলিশ কেন অভিযুক্তকে এখনও গ্রেফতার করছেন না সেই প্রশ্ন তুলে বৃহস্পতিবার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করলেন দম্পতির মেয়ে তানিয়া ভট্টাচার্য। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তানিয়াকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করলেন।
চলতি বছর ১ এপ্রিল শহরের পাণ্ডা পাড়ার দম্পতি পুরসভার প্রাক্তন উপপ্রধান অপর্না ভট্টাচার্য ও আইনজীবী সুবোধ ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। দম্পতির ঘর থেকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে সুইসাইড নোট। সেই সুসাইড নোটে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় সহ তাঁর ঘনিষ্ঠ ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ, মনোময় সরকার, সোনালী বিশ্বাসের নামে। সুবোধের দিদি বিজেপি বিধায়ক থানায় অভিযোগ জানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। পুলিশ তদন্তে নেমে সন্দীপ, মনোময়, সোনালীকে গ্রেফতার করে। নির্দিষ্ট সময়ে চার্জশিট জমা না দেওয়ার ধৃত তিনজনই জামিয়ে ছাড়া পায়।
এদিকে মূল অভিযুক্ত সৈকতের জামিন হাইকোর্ট থেকে নাকচ হতেই পলাতক হয়ে যায়। এ দিন তানিয়া বলেন, “প্রায় তিন মাস থেকে মূল অভিযুক্ত সৈকত চট্টোপাধ্যায় পলাতক। মূল অভিযুক্ত পলাতক পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না এটা কিভাবে সম্ভব। কেন খুঁজে পাচ্ছেন না এখন এটাই প্রশ্ন। এতটাই প্রভাবশালী যতদিন বাইরে থাকবে ততদিন এই কেসটাকে প্রভাবিত করবে। এদিকে আমি যাদের চিনি না তারা এসে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যতদিন সৈকত পদে থাকতে ততদিন প্রভাব থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপায়ের কাছে অনুরোধ বিষয়টি দেখার জন্য। এদিকে আমি তৃণমূলের জেলা সভানেত্রীকে অভিযোগ জানিয়েছি। এর আগেও আমি নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশকে জানিয়েছি।”
সৈকতের পক্ষের আইনজীবী সন্দীপ দত্ত বলেন, “আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মামলাটি, এর বাইরে কিছু বলার নেই।”

