বনগাঁ পৌরপ্রধানের পদ যাবে কার দখলে?

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১২ মার্চ: রাজ্যজুড়ে পৌরভোটে সবুজ ঝড়। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পৌরসভার ২২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯ টি ওয়ার্ডে জয় লাভ করেছে তৃণমূল। একটি বিজেপির, একটি কংগ্রেসের আর একটি নির্দলের। ইতি মধ্যেই তৃণমূলের বনগাঁ জেলা সাংগঠনিক সভাপতির রদ বদল হয়েছে। আলোরানী সরকারকে সরিয়ে নতুন সভাপতি করা হয়েছে এবারের জয়ী প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল শেঠকে। তাহলে চেয়ারম্যানের পদে কি বসবেন পর পর ৬ বারের কাউন্সিলর কৃষ্ণা রায়?

সূত্রের খবর, আগামী ১৪ মার্চ বনগাঁ পৌরসভায় বোর্ড গঠন করতে পারে তৃণমূল। কিন্তু এবার প্রশ্ন, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যানের আসন কার দখলে? ২২ জনের মধ্যে কে এগিয়ে রয়েছে? উল্লেখ্য, শেষ বারের চেয়ারম্যান পদ সামলেছেন তৃণমূল নেতা শংকর আঢ্য। পরে একবছর বনগাঁর পৌরপ্রশাসনিক পদও সামলেছেন শংকর আঢ্য। পৌর ভোটের আগে দলের একাংশের দাবি দুর্নীতি আর দাদাগিরির কারণে বনগাঁর লোকসভা ও বিধানসভাও হাত ছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। সেই কারণেই দলের নির্দেশে শংকরবাবুকে সরিয়ে নতুন প্রশাসক হিসাবে আনা হয় বনগাঁর প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল শেঠকে। যদিও এবারের পৌর নির্বাচনে বনগাঁ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী গোপাল শেঠ। আর তাতেই বনগাঁ পৌর প্রধানের দোর গোড়ায় ছিল গোপাল শেঠ। ইতি মধ্যেই গোপালকে বনগাঁ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্য দিকে, মহিলা পুরপ্রধানের দাবি তুলেছেন বনগাঁর মানুষ। এই নিয়ে স্যোসাল মিডিয়াতেও সোরগোল পড়েছে। ২২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে জয়ী মহিলা কাউন্সিলর রয়েছে ১১ জন। প্রসঙ্গত, ১১ জনের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সৎ স্বচ্ছ ভাবমূর্তি কাউন্সিলর হলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণা রায়। এমনই দাবি রাজনৈতিক মহলের। কৃষ্ণা রায় পর পর ৬ বারের কাউন্সিল। দু’বার ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সামলেছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে রাজনীতির ও পৌরসভার কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কাজে গোটা বনগাঁ শহরের মানুষের কাছে অন্য জননেত্রী কৃষ্ণা রায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে মানুষের সেবায় নিয়জিত তাঁর পরবিবার দাবি সাধারণ মানুষের। নিজের ওয়ার্ডের সঙ্গে সঙ্গে বনগাঁ পুরসভার ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে একাই সামলেছেন তিনি ও তার পরিবার।

উল্লেখ্য, এবারের বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে যদি কোনো জয়ী পুরুষ প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়, সে ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী প্রার্থী গোপাল শেঠ। শুধুমাত্র তাই নয় ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বনগাঁর বিধায়কের দায়িত্ব সামলেছেন। তারপর তিনি বনগাঁ আরটিও বোর্ডের সদস্য ছিলেন ১০ বছর। যদিও তাঁকে বনগাঁ জেলা সাংগঠনিকের দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কৃষ্ণা রায়কেই বনগাঁর চেয়ারম্যান করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই মত আমজনতার।

যদিও এবিষয়ে কৃষ্ণা রায় জানিয়েছেন, দল নেত্রী আমাদের প্রিয় দিদি যাকে বনগাঁর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেবেন, তাকেই মেনে নেব। তার উন্নয়নের বাতাবরণে নিজে থেকে চাওয়ার কিছু নেই। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা কে হবে বনগাঁর পুরপ্রধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *