আমাদের ভারত, ১৭ এপ্রিল:
সিবিআই তল্লাশি এবং জেরার মাঝে দুটি মোবাইল পানা পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানা এলাকার বাসিন্দা তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। কেন এই কাজ করলেন তৃণমূল বিধায়ক? তার কারণ ব্যখ্যা করতে গিয়ে বিস্ফোরক টুইট করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি প্রশ্ন তোলেন ভাইপোকে কি আড়াল করার চেষ্টা চলছে?
সুকান্ত মজুমদার টুইটে লিখেছেন, তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। মেধাবী এসএসসি পড়ুয়াদের ক্যারিয়ার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। জেরার মাঝে মোবাইল পুকুরে ফেলে দিয়েছেন। কাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন? ভাইপো?
টানা ৬৫ ঘন্টা তল্লাশির পর তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণের দ্বিতীয় মোবাইলটি উদ্ধার করেছে সিবিআই। ওই মোবাইলেই ৭০% তথ্য লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষায় কোন কোন তথ্য সামনে আসে সেটার অপেক্ষা করছেন তারা।
TMC MLA Jibankrishna Saha has been arrested by the CBI. He is accused for playing foul with the careers of meritorious SSC aspirants. But, during the interrogation, he threw both his mobile phones in a pond. Whom is he trying to shield? Bhaipo?
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) April 17, 2023
তৃণমূল বিধায়ক জিবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতারের আগে গত আড়াই দিন ধরে নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছে মুর্শিদাবাদের আন্দি। জীবন কৃষ্ণের সঙ্গে গরু পাচারেরও যোগ পাওয়া গেছে বলে সূত্রের খবর। বীরভূমের ইলামবাজার থেকে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা হয়ে বাংলাদেশে গরু পাচার হতো। অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল জীবনকৃষ্ণ। কেষ্টর হাত ধরেই তার রাজনীতিতে হাতে খড়ি। অনুব্রতর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই গরু পাচারে জীবন কৃষ্ণের ভূমিকা কী ছিল সেটা খতিয়ে দেখতে চাইছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
৬৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে পর নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে গ্রেপ্তার করা হয় বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ককে। সূত্রের খবর, তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে যে তিন হাজার পাতা নথি পাওয়া গেছে সেখানে মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি বীরভূমের চাকরিপ্রার্থীদেরও নাম রয়েছে। একই সঙ্গে বড়ঞা দিয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রটেকশন দেওয়া ও সাহায্য করতেন জীবনকৃষ্ণ বলেও অনুমান। কেষ্টর নির্দেশেই জীবনকৃষ্ণ এই কাজ করতেন কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

