আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, ১৬ ফেব্রুয়ারি: হুমকির পরও দল না ছাড়ায়, এবার এক বিজেপি নেতার বাড়িতে সাদা থান কাপড় পাঠানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নানুরের কুড়গ্রামে।
বুধবার সকালে ওই গ্রামের বাসিন্দা তথা বিজেপির নানুর ৩ নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি রামকৃষ্ণ মণ্ডলের বাড়ির গেটে সাদা ধুতি, রজনীগন্ধার মালা, ধূপবাতি, এক প্যাকেট শুকনো মিস্টি ভর্তি একটি থলে ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাংলায় এই ধরনের সামগ্রী সাধারণত অশুভ সংকেত বা মৃত্যুভয়ের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজায় এই দৃশ্য দেখে কার্যত শিউরে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা।
রামকৃষ্ণবাবু বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার বাড়িতে দলের একটি কর্মসূচি ছিল। সেই থেকে তৃণমূল আমার উপরে বেজায় চটেছিল। কয়েকদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল। তারাই আমাকে ভয় ধরাতে রাতের অন্ধকারে ওইসব জিনিস বাড়ির গেটে ঝুলিয়ে দিয়ে গিয়েছে”।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এবার সরাসরি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকে বাড়ির মহিলা ও শিশু সদস্যরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন, রাতের ঘুম উধাও হয়ে গেছে।’ এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা কুড়গ্রাম এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্কিত। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে এভাবে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেউ কেউ এটিকে পরিকল্পিত হুমকি বলেও মনে করছেন।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘ভোটের আগে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে তৃণমূলই ওই কান্ড করেছে।’
তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমাদের কেউ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিজেপি নাটক করছে।’
পুলিশ জানায়, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

