অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৯ এপ্রিল: সরস্বতী নদীর সংস্কার নিয়ে কমিটি গঠনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করলেন দুই বরিষ্ঠ পরিবেশকর্মী।
পরিবেশ আকাদেমির সভাপতি বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং সম্পাদক শংকর কুশারী শনিবার এই প্রতিবেদককে জানান, “বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে দক্ষিণবঙ্গের পরিবেশকর্মীরা প্রায় মজে যাওয়া সরস্বতী নদীর সংস্কার নিয়ে আবেদন নিবেদন আন্দোলন করে আসছেন।
সম্প্রতি পরিবেশবিদ সুভাষ দত্তের একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে সরস্বতী নদীর সংস্কার নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা স্বভাবতঃই খুশি কিন্তু একইসাথে কিছুটা আশঙ্কিতও বটে। কেননা আমাদের অভিজ্ঞতা বলে এ দেশে কমিটি গঠন করে আসলে অনেকসময়ই মূল সমস্যাটিকে ধামাচাপা দেবার প্রচেষ্টা করা হয়ে থাকে মাত্র। গঙ্গা দূষণ নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। মাননীয় সুভাষ দত্ত নিজে সেই কমিটির একজন সদস্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সেই কমিটি যে যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার প্রায় কোনও কিছুই গৃহীত হয়নি বা সেই সব প্রস্তাবের ভিত্তিতে কোনোরকম কাজ করা হয়নি।
পূর্ব কলকাতার জলাভূমির সমস্যা নিয়ে গঠিত কমিটি এবং তার প্রস্তাবগুলি নিয়েও আমাদের একই রকমের করুণ অভিজ্ঞতা। এইসব কারণেই সরস্বতী নদী নিয়ে গঠিত কমিটি প্রকৃতপক্ষে ঠিক কতখানি কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারবে সেই নিয়ে একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। সরস্বতী নদী দক্ষিণবঙ্গের দুটি জেলা হুগলী এবং হাওড়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
কিছুদিন আগে সরস্বতী নদীর হৃত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও কোনও স্থানে কিছু কিছু খননকার্য শুরুও হয়েছিল। সেসব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। যে সব স্থানে খননের কাজ চালানো হয়েছিল সেইসব জায়গায় নতুন করে আবর্জনা ফেলে আবার বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি গোটা যাত্রাপথ জুড়েই নদীটি একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় রূপান্তরিত হয়েছে। বেআইনি বসতবাড়ি দোকানঘর ইত্যাদি তো আছেই।
একসময়ে এই সরস্বতী নদীর উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল কতো জনপদ। আজ প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও প্রচন্ড সম্ভাবনাময় এই নদীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আমরা সহ্য করব না। আমরা আশা করছি গঠিত কমিটি সঠিকভাবে এই নদী সংক্রান্ত সকল সমস্যা, তার কারণ এবং একইসাথে সেই সমস্যা দূরীকরণের সকল উপায় প্রস্তাবাকারে সরকারের সামনে উপস্থিত করবেন এবং সরকারও সর্বান্তকরণে সেই প্রস্তাবগুলি কার্যকর করার জন্য সকলপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।“

