Sun Temple, Konark, কোন রহস্যের উন্মোচন হবে? ১২২ বছর পর খুলতে চলেছে ওড়িশার কোনারকের সূর্য মন্দিরের গর্ভগৃহ

আমাদের ভারত, ৯ ডিসেম্বর: রহস্যে মোড়া ওড়িশার কোনারকের সূর্য মন্দির দেখেনি এমন বাঙালি কমই আছে। যারা মন্দিরে গেছেন তারা সকলেই জানেন, এই মন্দিরের গর্ভগৃহ বন্ধ। কিন্তু সেই রহস্যের এবার উন্মোচনের সময় হয়তো এসেছে। এবার সেই গর্ভ গৃহে বালি সরানোর কাজ হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কোনারকের সূর্য মন্দিরের বালি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১২২ বছর পরে এই বালি সরানোর কাজ শুরু করেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।

ব্রিটিশ শাসন কালে ১৯০৩ সাল থেকে সূর্য মন্দিরের গর্ভগৃহ বন্ধ। তারপর থেকে সেটি বন্ধ অবস্থাতেই পড়েছিল। কিন্তু সেই গর্ভগৃহের নিস্তব্ধতা ভাঙলো। সেখানে কী রয়েছে, ১২২ বছর পর তার সন্ধানে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু হয়েছে।

সূর্য মন্দিরের ওই গর্ভগৃহ বালি দিয়ে ঠাসা। ২০১৯ সালের একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছিল গর্ভগৃহের ওই বালি ক্রমশ জমাট বাঁধছে। তার ফলে বালি এবং মন্দিরের কাঠামোর মধ্যে ১৭ ফুট দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এরফলে মন্দিরের বড়সড় ক্ষতির সম্ভাবনা করা হয়েছে। এই সমীক্ষাটি করেছিলেন সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। সি বি আর আই পরামর্শ দিয়েছিল, ১৭ ফুট জায়গা নতুন বালি দিয়ে ভর্তি করতে হবে, না হলে সমস্ত বালি বের করে এনে কাঠামোটি বাঁচানোর জন্য নতুন ভাবে কিছু ভাবতে হবে। তারা আশ্বাস দিয়েছিল, ১৭ ফুটের এই ব্যবধান তৈরি হওয়া সত্ত্বেও কাঠামোটি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।

এরপরে এএসআই- এর চার সদস্যের কমিটি যে রিপোর্ট দেয়, তাতে বালি সরানোর কথাই বলা হয়। শেষ পর্যন্ত বালি সড়ানোর কাজ শুরু হল।

২০১৭ শতকে তৈরি মন্দিরের অভ্যন্তরে যে গৃহে বালি ভরা আছে তার নাম জগমোহন। সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যার সময় মন্দিরের পশ্চিম দিকের দেয়ালে নয় মিটার খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। এমন ভাবে খোঁড়া হয়েছে যাতে কোনো কম্পন না হয়। কারণ কম্পনের ফলে মন্দিরে দেওয়াল ভেঙ্গে পড়তে পারে। তাই সাবধানে পদক্ষেপ করছে এএসআই। মন্দিরের পশ্চিম দিকে ৪ ফুট বাই ৪ ফুট সুরঙ্গ খুঁড়ে বালি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। দশ বিশেষজ্ঞের একটি দল এই পুরো প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সূর্য মন্দির সংরক্ষণ বিষয়ক একটি জাতীয় সম্মেলনের সময় ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তকমা পেয়েছিল এই মন্দির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *