Modi, Exam, পরীক্ষার নম্বর নাকি স্কিল কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? নবম পরীক্ষা পে চর্চায় শিক্ষক হয়ে পড়ুয়াদের সমস্যার সমাধান করলেন প্রধানমন্ত্রী

আমাদের ভারত, ৬ ফেব্রুয়ারি: পাঠ্য পুস্তকের সঙ্গে জীবন পরীক্ষার পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরীক্ষা পে চর্চা অনুষ্ঠানে আজ প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেল শিক্ষকের ভূমিকায়। পড়ুয়াদের মনোবল বাড়ালেন তিনি। পরামর্শ দিলেন পরীক্ষাকে উৎসবের মতো করে গ্রহণ করতে। একই সঙ্গে পড়ুয়াদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্ক করলেন তিনি। বললেন অনলাইন বেটিং গেম থেকে দূরে থাকতে।

নবম পরীক্ষা পে চর্চা পুরনো সব পরীক্ষা পে চর্চার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি পড়ুয়া, শিক্ষক, অভিভাবক নিজেদের নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষকের ভূমিকায় দেখতে এবং পড়াশোনা নিয়ে তাঁর কাছ থেকে টিপস নিতে।

এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পড়ুয়াদের পেপ টক দিয়ে বলেন, তোমাদের মা-বাবা শিক্ষক বা পরিচিতরা যে যাই বলুক না কেন, নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখো, এবং নিজের প্যাটার্ন অনুসরণ করো। আমাদের লক্ষ্য সবসময় সীমার মধ্যে থাকা উচিত, কিন্তু এমন লক্ষ্য নয় যে সহজেই অর্জন করা যায়, সব সময় শিক্ষকের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকো।

গুজরাটের এক পড়ুয়া তাঁকে বলেন, তার বাবা- মা এবং শিক্ষকরা সকলেই আলাদা আলাদা প্যাটার্নে পড়তে বলেন, এতে তারা কনফিউজ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের বোঝান যে, প্রত্যেক পড়ুয়ারই একটি নিজস্ব ভঙ্গি রয়েছে, তাল রয়েছে। তিনি পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ান। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলেন।

তিনি আরো বলেন যে, এরকম সকলের সঙ্গেই হয়, এমনকি তাঁর সঙ্গেও হয়েছে। পড়ুয়াদের বুঝিয়ে বলেন যে, কেউ সকালে সব থেকে ভালো পড়তে পারে, কারোর আবার রাত জেগে না পড়লে পড়া মনে থাকে না, তাই নিজের প্যাটার্নে ভরসা রাখা উচিত এবং সেই অনুযায়ী পড়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, পড়ানোর গতি এমনভাবে সামান্য এগিয়ে রাখতে যাতে পড়ুয়াদের পড়াশোনা আরো সহজ হয়। যেমন ইতিহাস পড়াতে গেলে, আগেই যদি শিক্ষক জানিয়ে দেন যে পরবর্তী অধ্যায় বা চ্যাপ্টারে কী হতে চলেছে তাহলে পড়ুয়ারা নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারবে।

আরেক পড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন যে, দক্ষতা বেশি জরুরি, নাকি পরীক্ষার খাতার নম্বর। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হলো আসল দক্ষতা। শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের দক্ষতা বাড়ানো, নিজের হবিকে লালন পালন করা উচিত, এটাই জীবনের উন্নতির পথ।

একইভাবে জীবনে দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার কথা বলেন তিনি। বাবা- মা না থাকলে রান্না করা, ট্রেনের টিকিট কাটাও জীবনে স্কিলের মধ্যে পড়ে। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি এই সমস্ত কিছুর উপরে জোর দিতে বলেন তিনি। জীবনে উন্নতির জন্য সুশৃংখল সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পরীক্ষার প্যাটার্ন বদলাতেই থাকে, তাই অনেকেই পুরনো প্রশ্নপত্র দেখে অনেক চ্যাপ্টার বাদ দিয়ে চলে যায়।এমনটা না করে কঠোর পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন তিনি। জীবনের পাঠ দিয়ে বলেন, জীবনটা শুধুমাত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নয়, জীবনের উন্নতির জন্য শিক্ষাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

সোশ্যাল মিডিয়া বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করতে এবং অনলাইন ব্যাটিং গেম থেকে দূরে থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গেমিং অবশ্যই একটা স্কিল। ভারতে এখন ইন্টারনেট ও টেকনোলজি সস্তা। কিন্তু এগুলো সস্তা বলে এর জন্য সময় নষ্ট করো না। নিজের লাভ বা প্রয়োজনের জন্য ব্যবহার করো ইন্টারনেটকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *