“বাংলায় কোনও শিল্পপতি শিল্প করতে গেলেই তৃণমূলের তরফে তাদের কাছে তোলা চাওয়া হচ্ছে”, অভিযোগ লকেট চ্যাটার্জির

আমাদের ভারত, হুগলি, ৩০ অক্টোবর: তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুললেন হুগলির সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি। শনিবার একটি ভিডিও বার্তায় লকেট চ্যাটার্জি অভিযোগ করে বলেন, বাংলায় কোনও শিল্পপতি শিল্প করতে গেলেই তৃণমূলের তরফে তাদের কাছে তোলা চাওয়া হচ্ছে। তোলা না দিতে পারলেই বিভিন্ন রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খুন করে দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে। বাংলার এই কায়দা চালু করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও গোয়া যাচ্ছেন। কখনও ত্রিপুরার যাচ্ছেন। লকেট তৃণমূলকে টিপন্নি কেটে বলেন, তৃণমূল এত বড় দল হয়ে গিয়েছে। এত টাকা পয়সার দরকার হয়ে পড়েছে শুধু বাংলা থেকে সেটা হচ্ছে না। তাই তিনি বাংলার সর্বনাশ করেছেন। গোয়ার সর্বনাশ করেছেন, ত্রিপুরার সর্বনাশ করবেন। বাংলায় তিনি কোনও শিল্প হতে দেবে না। এইতো অবস্থা বাংলার। অন্তত এমনটাই অভিযোগ করে সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।

সম্প্রতি, হুগলির দাদপুরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি শিল্প হাব তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি, সেই লজিষ্টিক হাবে ধনেখালির বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অসীমা পাত্রের নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার টিশার্ট চাওয়ার অভিযোগ ওঠে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই শিল্পপতি টাকা কিম্বা টিশার্ট কিছুই ওই ব্যক্তিকে দেননি। এই ঘটনায় একটি স্করপিও গাড়িতে চেপে এসে দাদপুর থেকে তিনজন কর্মীকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে রাজীব বসু রায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই গোটা ঘটনাটি ওই শিল্পপতি ইমেলের মাধ্যেমে মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, হুগলির পুলিশ সুপার সহ একাধিক জনকে জানান। এরপর পুলিশ বিয়টি নিয়ে তৎপর হতেই অপহরণকারীদের দাদপুরে ওই লজিষ্টিক হাবের কাছে ছেড়ে দিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর। কিন্তু, এরপর থেকেই রাজীব বসু রায় গা ঢাকা দেন।


(রাজীব বসু)

যদিও এই প্রসঙ্গে জানতে ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্রকে ফোন করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এসএমএসের উত্তর পাওয়া যায়নি।

যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, দাদপুরে তোলাবাজির ঘটনায় তৃণমূল কিম্বা দলের কেউ জড়িত নয়। পুলিশ এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। দোষীর শাস্তি হবে। বাংলায় শিল্পপতিদের ভয়ের কোনও কারণ নেই।

হুগলির সাংসদ লকেট চ্যাটার্জির অভিযোগের প্রতুত্তরে জেলা সভাপতি স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, ভারতের ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুয়ায়ী সরকারি কাজে বাধা ও কর্মীদের মারধরের বিষয়ে সব থেকে এগিয়ে উত্তরপ্রদেশ। তারপর গুজরাট। বাংলায় এসব হয় ন। যা হয় সেটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা। তৃণমূল এই কাজ সমর্থন করে না। লকেটদেবী আগে উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাট সামলাক তারপর বাংলার কথা বলবেন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত পলাতক। তার বিরুদ্ধে তল্লাশি জারি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *