আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২০ মার্চ: দলের নয় জন প্রার্থীকে নিয়ে মা তারার পুজো দিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। এরপরেই সাংবাদিক সম্মেলনে বীরভূমকে তৃণমূল শূন্য করার ডাক দিলেন। প্রার্থী নিয়ে ছোটখাটো অসন্তোষ মিটিয়ে সব আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বীরভূমে ১১ আসনের বিধানসভা। তাদের মধ্যে বোলপুরের অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় ও নলহাটি কেন্দ্রের প্রার্থী তাপস কুমার যাদব এদিন আসেননি। বাকি ৯ জনের মধ্যে রামপুরহাটের শুভাশিস চৌধুরী, হাঁসনের নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, ময়ূরেশ্বরের শ্যামাপদ মণ্ডলরা একে একে পুজো দেন।
পুজো দিয়ে শ্যামাপদবাবু বলেন, “এবার তৃণমূল নামক অসুরকূলের বিনাশ করবে মানুষ। মোদীর হাত শক্ত করতে বাংলার মানুষ পদ্মফুলে ভোট দেবেন। বীরভূমের মানুষও ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই তৃণমূল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সাত দশদিন ধরে মানুষ বাড়ির বাইরে বের হতে পারেনি। বিডিও অফিস, মহকুমা শাসকের অফিস, জেলা শাসকের অফিস তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হাতে বোমা, ধারা অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দখল করে রেখেছিল। আর সেই দুষ্কৃতীদের নিরাপত্তা দিতে উপস্থিত ছিল পুলিশ। মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে আমাদের বহু কর্মী মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মানুষ তার জবাব দেবে”। হাঁসনের প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ক্ষমতায় এলে তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ঘুঘুর বাসা ভাঙ্গব। মন্দিরের উন্নয়নের নামে যে দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত কাজ হয়েছে তা বন্ধ করব। মা তারার ভোগ রান্নার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হলেও তা বাস্তবে রূপ পায়নি। আমরা মায়ের ভোগ ঘর তৈরি করব”। ধ্রুব সাহা বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত বীরভূম উপহার দিতে চাই। মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করবেন এই ভরসা রেখে সব আসনে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাব”।
যদিও দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভোগ ঘরের সামান্য কিছু সমস্যার জন্য চালু করা যায়নি। তবে দ্রুত চালু করা হবে। আর যারা দুর্নীতির অভিযোগ করছেন তারা এখনও পর্যন্ত কোথাও এনিয়ে অভিযোগ করেননি। এখন ভোটের সময় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। এসব মানুষ মেনে নেবে না”।

